বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: এশিয়ান গেমসে দেশের জন্য 11 তম সোনা নিয়ে এসেছিলেন জলপাইগুড়ির মেয়ে স্বপ্না বর্মণ (Swapna Barman)। প্রিয় ইভেন্ট হেপ্টাথলনে সোনা জিতেছিলেন তিনি। তাছাড়াও পরবর্তীতে জাতীয় গেমসে মধ্যপ্রদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে সোনার মেডেল জিতেছিলেন বাংলার মেয়ে। দেশের গর্ব সোনার পদকজয়ী অ্যাথলেটকে এক অনুষ্ঠানে সসম্মানে বরণ করে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে যে চাদর গলায় পরিয়ে বাংলার সোনার কন্যাকে বরণ করা হল, তা ছিল শিলিগুড়ি পৌরনিগমের মেয়র গৌতম দেবের গলায়। সেই চাদর খুলে নিয়ে স্বপ্না বর্মণকে পরানোয় জন্ম নিয়েছে বিতর্ক।
ভাইরাল ভিডিও
শিলিগুড়িতে মহাকাল মহাতীর্থ মন্দিরের শিলান্যাস করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিলান্যাস পর্ব মিটিয়ে বাংলার বুকে তৈরি হতে যাওয়া মহাকালের নতুন মন্দির নিয়ে একগুচ্ছ তথ্য সর্বসমক্ষে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন সেই অনুষ্ঠান মঞ্চেই আচমকা আগমন ঘটে ভারতীয় অ্যাথলেট সোনার মেয়ে স্বপ্না বর্মণের। স্টেজে পৌঁছতেই মুখ্যমন্ত্রীর পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন তিনি। আর তারপরই যা ঘটলো তা অবাক করে দিয়েছে সকলকে…
এদিন স্বপ্নাকে সম্মানে বরণ করে নিতে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিলিগুড়ি, পৌরনিগমের মেয়র গৌতম দেবের গলার চাদর খুলে নেন মুখ্যমন্ত্রী। পরবর্তীতে ওই চাদরই উত্তরীয় হিসেবে পরিয়ে দেওয়া হয় জলপাইগুড়ির মেয়ে স্বপ্নার গলায়। যেই দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই একেবারে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেছেন নেট নাগরিকরা। মুখ্যমন্ত্রীর এহেন কর্মকাণ্ড নিয়ে একেবারে হইহই পড়ে গিয়েছে নেট দুনিয়ায়।
মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না নেট নাগরিকরা
শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের গলার চাদর খুলে ভারতের সোনার পদকজয়ী অ্যাথলেটকে বরণ করায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন নেট নাগরিকদের একটা বড় অংশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটির কমেন্ট বক্সে চোখ রাখলে দেখা যাবে, মুখ্যমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড দেখে কেউ লিখছেন, “নিজের চাদরটা দিতে পারতো… ওটা দিল না কেন? ওটার সম্মান আরও বেশি?” ভিডিওটি দেখার পর এক নেট নাগরিক লিখেছেন, “আমাদের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এখন টাকা নেই, তাই অন্যের চাদর নিয়ে অন্যকে গিফট করছে।” এক নেট নাগরিক তো লিখেই ফেলেছেন, “সম্মান না অসম্মান করতে ডেকেছে?” কেউ আবার গোটা বিষয়টিকে চাদর চুরির তকমা দিয়েছেন।
অবশ্যই পড়ুন: কবে হবে নিয়োগ? ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব তুলে বড় মন্তব্য করলেন ব্রাত্য বসু
উল্লেখ্য, 2022 এ মধ্যপ্রদেশের হয়ে জাতীয় গেমসে একটি নয়, একেবারে জোড়া সোনা জিতে ছিলেন স্বপ্না বর্মন। এখানেই শেষ নয়, চোট যন্ত্রণা সামলে কঠিন পরিশ্রম করে 2018 সালে এশিয়ান গেমসেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন তিনি। এছাড়াও 2019 সালে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে রুপোর পদক হাতে উঠেছিল স্বপ্নার। এর আগে 2015 সালে হেপ্টাথলনে বাংলার হয়ে সোনা এবং হাই জাম্পে রূপো জিতে ছিলেন স্বপ্না বর্মন।