সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আধ্যাত্মিক জগতের এক অনন্য মুহূর্ত সাক্ষী থাকল গ্র্যামির মঞ্চ। সারা বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সংগীত পুরস্কার গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে এবার সম্মানিত হয়েছেন তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা চতুর্দশ দলাই লামা (Dalai Lama)। ৬৮ তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে তিনি জয়ী হয়েছেন ‘সেরা অডিও বুক, ন্যারেশন অ্যান্ড স্টোরিটেলিং রেকর্ডিং’ বিভাগে। নবতিপর এই ধর্মগুরু মঞ্চে উপস্থিত না থাকলেও তাঁর হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগীত শিল্পী রুফাস ওয়েনরাইট।
কোন কাজের জন্য তিনি এই স্বীকৃতি পেলেন?
জানা যাচ্ছে, দলাই লামা পুরস্কৃত হয়েছেন তাঁর বিশেষ অডিও প্রজেক্ট ‘Meditation: The Reflections of His Holiness the Dalai Lama’ এর জন্যই। আর এই অডিও রেকর্ডিংকে দলাই লামার শান্তিপূর্ণ এবং আত্মচিন্তার বাণীর সঙ্গে শাস্ত্রীয় সংগীতের মেলবন্ধনও উঠে এসেছিল, যা শ্রোতাদের মধ্যে মানসিক শান্তি এনে দেয়।
তবে হ্যাঁ, এই বিভাগে প্রতিযোগিতা যে মোটেই সহজ ছিল না তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ, দলাই লামার সঙ্গে মনোনীত প্রার্থীরা ছিলেন গ্রামীণ সঞ্চালক ট্রেভর নোয়া, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কেটানজি ব্রাউন জ্যাকসন, পপ জগতের আলোচিত নাম মিলি ভানিলি এবং শিল্পী ফ্যাব মরভ্যান। আর তাঁদের সবাইকে টেক্কা দিয়ে সেরার শিরোপা ছিনিয়ে নিয়েছেন দলাই লামা।
His Holiness the Dalai Lama Receives Grammy Recognition Highlighting Universal Responsibility and Compassion
Grammy Award Best Audiobook Narration – Meditations: The Reflections of His Holiness the Dalai Lama.
I receive this recognition with gratitude and humility. I don’t see… pic.twitter.com/YhK5zlyhem
— Dalai Lama (@DalaiLama) February 2, 2026
আরও পড়ুন: রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার জন্যই কী বাজেটে সুদিন ফিরল না কলকাতা মেট্রোর?
এদিকে দলাই লামার হয়ে পুরস্কার গ্রহণের পর রুফাস ওয়েনরাইট মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেন যে, দলাই লামার সঙ্গে দয়াময় আর আত্মনির্ভরতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এমন একটি কাজে যুক্ত হতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত। এর থেকে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে! উল্লেখ করার বিষয়, ১৯৫৯ সালের অন্ধকার রাতে মাত্র ২৩ বছর বয়সেই তিব্বতের দুর্গম পাহাড় পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। আর আজ বিশ্বের কাছে দলাই লামা নামেই পরিচিত। সেই সময় থেকেই ভারত তাঁর দ্বিতীয় ঘর হয়ে উঠেছে। উল্লেখ্য, তাঁকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ভারত এবং চিনের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। এমনকি বেজিং দলাই লামাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বলেও দাবি করেন। আর বরাবরই ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এসেছেন এই ধর্মগুরু।