ঘরে দুটো লাইট, লক্ষাধিক টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল মেটাতে জমি বিক্রি করলেন দরিদ্র দম্পতি

Kumarganj Elderly couple sells land to pay electricity bills

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সম্বল বলতে আছে কোনও মতে মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে দুটো ঘর। সেই দুই ঘরে রাত হলে টিমটিম করে জলে দুটি লাইট। আছে একটি সাদা কালো টিভিও। পরিবার বলতে বৃদ্ধ স্বামী-স্ত্রী। সেই দুজনের সংসারে দুটো লাইট পুড়িয়ে নাকি 5 বছরে বিদ্যুতের বকেয়া বিল হয়েছে 73 হাজার টাকা। তার উপর সুদ বাবদ জুড়েছে 34 হাজারেরও বেশি। সবমিলিয়ে 1 লাখেরও বেশি অর্থের বিদ্যুৎ বিল মেটাতে নিজেদের 9 শতক জমি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ ব্লকের (Kumarganj) ধাদলপাড়া বাড়ি পুকুর এলাকার বাসিন্দা দরিদ্র আদিবাসী বৃদ্ধ দম্পতি।

1 বছর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার পর জমি বেঁচে বিদ্যুৎ বকেয়া মেটালেন বৃদ্ধ দম্পতি

জানা গিয়েছে, প্রায় 10 বছর আগে ইন্দিরা আবাস যোজনার আওতায় দুটি টিনের ঘর পেয়েছিলেন কুমারগঞ্জ ব্লকের বাসিন্দা পেশায় কৃষক বৃদ্ধ বিশান হেমব্রম এবং তাঁর স্ত্রী সীতা দেবী। ক্যামেরার মুখোমুখি হয়ে ওই বৃদ্ধ দম্পতি জানিয়েছেন, ঘরে আসবাব বলতে কিছুই নেই। শীতের রাতে মেঝেতে চাদর বিছিয়ে ঘুমোতে হয় তাদের। সংসারে চরম অভাব। আর এই পরিস্থিতির মধ্যেও, স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিস থেকে জানানো হয় 5 বছরের বিদ্যুৎ বকেয়া বাবদ 73 হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। তাতে সুদ হয়েছে 34,830 টাকা। বেশ কয়েকবার এই বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলা হলেও সময় মতো টাকা দিতে না পারায় কেটে দেওয়া হয়েছিল বিদ্যুতের লাইন।

অবশ্যই পড়ুন: “রোহিত শর্মাই ভারতের অধিনায়ক!” জানিয়ে দিলেন খোদ ICC চেয়ারম্যান জয় শাহ

ওই বৃদ্ধ দম্পতি জানিয়েছেন, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল মেটানোর জন্য বারবার বিদ্যুৎ দপ্তর থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল তাদের। শেষ পর্যন্ত আর না পেরে নিজেদের সম্বল 9 শতক জমি বিক্রি করে সেই টাকা মেটান তারা। তারপরই গত মঙ্গলবার বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীরা বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে গিয়েছে। যে ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। প্রশ্ন উঠছে, কোন হিসেবে 5 বছরে ওই বৃদ্ধ দম্পতির বিদ্যুৎ বিল 73 হাজার টাকা হল? প্রশ্ন উঠছে, বিদ্যুৎ দপ্তরের বিল নির্ধারণ পদ্ধতি নিয়েও।

এ বিষয়ে ক্যামেরার মুখোমুখি হয়ে ওই বৃদ্ধ দম্পতি জানিয়েছেন, বিদ্যুতের বকেয়া বিল মেটানোর জন্য 9 শতক জমি বিক্রি করার পাশাপাশি কিছু জমি লিজ দিতে হয়েছে তাদের। সেইসব সূত্র থেকে পাওয়া অর্থ মিলিয়ে গত মঙ্গলবার 1 লাখ 7 হাজার 953 টাকা নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে হাজির হন তাঁরা। তবে অভিযোগ, হাতে গুনে টাকা নিয়ে নিলেও আইন মেনে কোনও পাকা রশি দেওয়া হয়নি তাদের। বরং, বিদ্যুতের বিলের উপর হাতে লিখে দেওয়া হয়েছে বিলের বকেয়া অর্থ এবং সুদের হিসাব। তাতেই প্রশ্ন উঠছে, 5 বছরে কীভাবে দুটো বাল্ব থেকে 73 হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল ওঠে? ওই বকেয়া অর্থের উপর কোন হিসেবে 34 হাজারেরও বেশি সুদ নির্ধারণ করা হলো তা নিয়েও বিদ্যুৎ দপ্তরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন অনেকে।

 

অবশ্যই পড়ুন: নলহাটির ব্রাহ্মণী নদী থেকে উদ্ধার প্রাচীন জটায়ু ও জগন্নাথ দেবের মূর্তি

প্রসঙ্গত, কুমারগঞ্জের দরিদ্র বৃদ্ধ দম্পতির কাছ থেকে বিদ্যুৎ বকেয়া বাবদ লক্ষাধিক টাকা নেওয়ার ঘটনায় বয়ে যাচ্ছে সমালোচনার ঝড়। এ নিয়ে একেবারে কড়া ভাষায় স্থানীয় ওই বিদ্যুৎ অফিসের আধিকারিকদের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাড়া-প্রতিবেশীরা। যদিও পরবর্তীতে কুমারগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসের স্টেশন ম্যানেজার নাজমুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমি এই মুহূর্তে ছুটিতে আছি, অফিসে ফিরে বিষয়টি খতিয়ে দেখব।” কার্যত একই সুর শোনা গিয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার এক বিদ্যুৎ আধিকারিকের গলাতেও।

Leave a Comment