সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: চাল, আলুর পর এবার ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ ভেনামি চিংড়ির নপলি বা রেণু আমদানি কোর্টে চলেছে বাংলাদেশ। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে তীব্র উদ্বেগ আর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ওপার বাংলার চিংড়ি হ্যাচারি মালিকরা (Bangladesh Prawn Import)। তারা অভিযোগ করছে, আইন ও সরকারের নীতিমালাকে উপেক্ষা করেই এই অনুমোদন দিয়েছে মৎস্য অধিদফতর। আর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের অন্তত ৫০টি চিংড়ি হ্যাচারি বিরাট আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনই গুরুতর অভিযোগ
আসলে বুধবার দুপুরে কক্সবাজার শহরের কলাতলী হোটেল জোনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল শ্রিম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ। আর সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি এবং কক্সবাজার-৩ আসনের সাবেক সাংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেছেন। তিনি জানান, গত ৩ ডিসেম্বর মৎস্য অধিদফতর সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পুরুলিয়া বাজারের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তৌফিক এন্টারপ্রাইজকে ভারত থেকে আনুমানিক ৪২ কোটি ভেনামি চিংড়ির রেণু আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এরপর ২৩ ডিসেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সেই অনুমোদনে সিলমোহরও দেয়। আর অনুমতি পাওয়ার পর কলকাতা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বিধা ফিশ ট্রেডার্স থেকেই এই রেণু আনার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে তিনি আরও বলেন, এই আমদানি যদি একবার শুরু হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বেশি পরিমাণ রেনু দেশে ঢুকবে। আর তখন তা নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে যাবে। এমনকি বিষয়টি বন্ধের দাবিতে ইতিমধ্যেই মৎস্য উপদেষ্টা এবং মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালকদের কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু হ্যাঁ, এখনও পর্যন্ত কোনও রকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুনঃ কালিম্পংকে শীতে টক্কর দক্ষিণবঙ্গের ২ জেলার, সোম থেকে অন্য রূপ দেখাবে আবহাওয়া
উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব গিয়াস উদ্দিন বলেছেন, মৎস্য অধিদফতরের এই অনুমোদন সরাসরি ২০২৩ সালের ভেনামি চিংড়ি উৎপাদন নীতিমালা এবং মৎস্য সঙ্গনিরোধ বিধিমালা ২০২৪ এর পরিপন্থী। সেই কারণে বর্তমান বিধিমালায় ভেনামি চিংড়ির রেণু আমদানি কোনও আইনের সুযোগ নেই। এমনকি তাঁর দাবি অনুযায়ী, দেশে ভেনামি চাষে বছরে সর্বোচ্চ পোনার প্রয়োজন হয় ১৫ থেকে ২০ কোটি। অথচ অনুমোদিত হ্যাচারিগুলির উৎপাদন ক্ষমতা ২০০ থেকে ২৫০ কোটি পোনা। আর এই অবস্থায় বিদেশ থেকে আরও ৪২ কোটি রেণু আমদানির কোনও প্রয়োজন নেই বলেই মত প্রকাশ করছে তারা।
আরও পড়ুন: সিলেটে হিন্দু শিক্ষকের বাড়িতে লাগানো হল আগুন, বাংলাদেশে ফের আক্রান্ত সনাতনীরা
কী এই চিংড়ির নপলি বা রেণু?
আসলে নপলি বা রেণু হল চিংড়ির জীবনের প্রাথমিক ধাপ। ডিম ফুটে বের হওয়ার পর চিংড়ি যে ক্ষুদ্র অবস্থায় থাকে, তাকেই রেণু বলা হয়। এটিকে দেখতে অনেকটা মাকড়সার মতো। মোটামুটি ১৮ থেকে ২১ দিনের মধ্যেই এই রেণু থেকে পোনা তৈরি হয়। এরপর সেগুলি চাষের জন্য বাজারে সরবরাহ করা হয়। সেই কারণে রেণু আমদানি মানেই গোটা চিংড়ি উৎপাদন ব্যবস্থার উপর সরাসরি প্রভাব পড়ে।