চিতাভষ্ম রয়েছে এই মন্দিরে, জন্মবার্ষিকীতে নেতাজির মৃত্যুর আসল কারণ জানালেন মেয়ে অনিতা

Main reason of death of Subhas Chandra Bose revealed by his daughter

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আজ 23 জানুয়ারি, শুক্রবার দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর 129তম জন্মবার্ষিকী (Subhas Chandra Bose)। কাকতালীয়ভাবে আজই নেতাজির জন্মদিনের পাশাপাশি সরস্বতী পুজো। আর এই শুভ দিনেই সরকারের কাছে কাতর অনুরোধ রাখলেন নেতাজীর কন্যা অনিতা বসু পাফ। করুণ স্বরে সুভাষচন্দ্র বসুর মেয়ের আবেদন, তাঁর বাবার চিতাভস্ম যেন জাপানের রেনকোজি মন্দির থেকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়। বিশেষ দিনে নেতাজির মেয়ে অনিতার এই আবেদন কি আদৌ রাখবে সরকার? উঠছে প্রশ্ন।

জাপানের মন্দিরে সত্যিই কি নেতাজির চিতাভস্ম আছে?

নেতাজির মৃত্যু নিয়ে সংশয় রয়েছে ভারতবাসীর। 1945 সালের 18 আগস্ট অন্তর্ধান হওয়ার পর নেতাজিকে নিয়ে নানা মুনির নানা মত। কেউ বলেন, বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল নেতাজির। কারও দাবি, কিছুদিন আগেই প্রয়াত হয়েছেন তিনি। একটা অংশের বক্তব্য, গুমনামী বাবাই আসলে নেতাজি। সবমিলিয়ে, নেতাজির মৃত্যু নিয়ে রয়েছে গভীর রহস্য। এদিকে নেতাজির পরিবারের বিশ্বাস, জাপানের টোকিওর রেনকোজি মন্দিরে রাখা রয়েছে নেতাজির শেষ চিহ্ন চিতাভস্ম। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সেই শেষ স্মৃতি দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য সরকারের কাছে একেবারে কাতর অনুরোধ করলেন কন্যা অনিতা।

সদূর জার্মানি নিবাসী অনিতা বসু পাফ ভারতবাসীর উদ্দেশ্যে লিখেছেন, “ভারতের স্বাধীনতার জন্য জীবনটাই বাজি রেখেছিলেন নেতাজি। কিন্তু মৃত্যুর আট দশক পরেও যদি তাঁর চিতাভষ্ম বিদেশের মাটিতে থেকে যায় তবে তা আদতেই কষ্টদায়ক। যাঁরা নেতাজিকে সত্যিই ভালোবাসেন এবং শ্রদ্ধা করেন তাঁদের উদ্দেশ্যে আমার আবেদন নেতাজির শেষ চিহ্ন দেশে ফিরিয়ে আনতে আপনার পূর্ণ সমর্থন করুন।” অনিতা দেবীর বক্তব্য, জাপান থেকে চিতাভস্ম নিয়ে এসে সসম্মানে দেশের মাটিতেই শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হোক বাবার।

অবশ্যই পড়ুন: যেকোনও সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা, চলছে জোর প্রস্তুতি!

কীভাবে মৃত্যু হয়েছিল নেতাজির?

এদিন, দেশের স্বাধীনতায় নেতাজির অবদান স্মরণ করিয়ে তাঁর মৃত্যুর কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন কন্যা অনিতা দেবী। নেতাজী কন্যার মতে, 1945 সালের 18 আগস্ট তাইহুকোর বিমান দুর্ঘটনার আগে সিঙ্গাপুর থেকে টোকিওর উদ্দেশ্যে ওই বিমানে করেই রওনা দিয়েছিলেন নেতাজি। পরবর্তীতে বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়লেও কোনও মতে প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু। নেতাজি কন্যার কথায়, “বাবার শরীর বেশিরভাগটাই পুড়ে গিয়েছিল। তবে কোনও মতে বেঁচে ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে জাপানেই মৃত্যু হয় তাঁর।” অনিতা দেবীর বক্তব্য, নেতাজির মৃত্যুর পর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় তাইপেইতে। পরবর্তী তাঁর চিতাভষ্ম নিয়ে জাপানের টোকিওর রেনিকোজি মন্দিরে রাখা হয়।

Leave a Comment