চূড়ান্ত ভোটার তালিকা দিন ঘোষণা সুপ্রিম কোর্টের, বড় নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: SIR নথি যাচাইয়ে এবার বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)! জানা গিয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ঘোষণার আগেই এবার বাংলায় ভিন রাজ্যের জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করতে হবে SIR নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এমনই নির্দেশ দিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি জে. ভিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চ। আপত্তি তুলল রাজ্য সরকার।

নেওয়া হবে ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে বিচারকদের সাহায্য

রিপোর্ট মোতাবেক, গত ২০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে রাজ্যে SIR শুনানিতে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করতে হবে। সেই মতো বিচারক নিয়োগ হয়েছে। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল রিপোর্ট পাঠিয়েছেন যে ৮০ লক্ষের বেশি কাজ বাকি রয়েছে। এমনকি পর্যাপ্ত লোকের অভাবের কথা বলা হয়েছে। সেই কারণে ভিন রাজ্য থেকে বিচারক নেওয়া যাবে বলে আদালত জানিয়েছে। যে পরিমাণ কাজ বাকি রয়েছে, তা সম্পন্ন করতে এখনও ৮০ দিন সময় লাগবে। তাই পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, অবসরপ্রাপ্তদের পাশাপাশি ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে বিচারকদের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে এই ক্ষেত্রে। আর তাতেই আপত্তি তোলে রাজ্য।

আপত্তি রাজ্য সরকারের

আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি জে. ভিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চে এসআইআর শুনানির মামলার ওঠে। সেখানে রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কর্মসূচির শুনানি দ্রুততার সঙ্গে শেষ করার জন্য ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ডের জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগ করার জন্য নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। কিন্তু সেই সময়, রাজ্যের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ভিন রাজ্যের বিচারকরা বাংলা ভাষা বুঝবেন না। সেক্ষেত্রে যোগাযোগের সমস্যা হতে পারে। তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, “ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ডের মানুষ ভাষা বোঝেন। একসময় পুরো এলাকা বাংলার ছিল।” তাঁদের আসা-যাওয়ার খরচ এবং থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা কমিশনকেই করতে হবে বলে জানায় সুপ্রিম কোর্ট।

পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে ৮০ দিনে

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “আমরা কলকাতা হাইকোর্ট থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট পেয়েছি। যেখানে বলা হয়েছে ৮০ লক্ষ অভিযোগ খতিয়ে দেখতে হবে। ২৫০ জন ডিস্ট্রিক্ট জাজ এবং অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জাজ পদমর্যাদার জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে যদি একজন জুডিশিয়াল অফিসার দিনে ২৫০ অভিযোগের সমাধান করেন, তাহলে সেই অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে ৮০ দিন সময় লাগবে। তাই জুনিয়র এবং সিনিয়র সিভিল জাজ পদমর্যাদার অফিসার যাদের অন্তত তিন বছরের কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাদের নিয়োগ করতে পারবেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি।”

আরও পড়ুন: প্রশ্ন ভুল, তবু ১০০ টাকা ফি! SSC-র বিরুদ্ধে সরব হাইকোর্ট

আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ঘোষণা হবে। যা বাকি থাকবে সেই সাপ্লিমেন্টারি তালিকা নিয়মিত প্রকাশ করতে থাকবে কমিশন। আধার কার্ড এবং অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণযোগ্য ডকুমেন্টস হিসেবে মান্যতা পাবেন। দায়িত্বে থাকা জুডিশিয়াল অফিসারকে তথ্য এবং ডকুমেন্টসের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে বোঝানোর দায়িত্ব থাকবে ERO এবং AERO র। লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে গোটা বিষয়টি যেন স্বচ্ছতা মেনে চলে।

Leave a Comment