বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ফের শিরোনামে ছত্তিশগড় (Chhattisgarh)। এবার নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে কয়েক দফা সংঘর্ষে প্রাণ গেল 14 জন মাওবাদীর। জানা যায়, শনিবার ভোর থেকেই বিশেষ অভিযানে নামে নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী। আর তাতেই প্রথমে সুকমা জেলায় নিকেশ করা হয় 12 জন মাওবাদীকে। তাদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণ স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এরপরই বিজপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে দীর্ঘ গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয় আরও 2 জন মাওবাদী। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য এলাকাজুড়ে।
গোপন সূত্রে খবর পেয়েই মাওবাদী দমন
একাধিক সূত্র মারফত খবর, কিস্তাওয়ারের জঙ্গলের কাছে পামলুর গ্রামে একাধিক মাওবাদী লুকিয়ে থাকার খবর পান গোয়েন্দারা। গোপন সূত্রে সেই খবর পেতেই যৌথ অভিযানে নামে পুলিশ এবং আধা সামরিক বাহিনী। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ঘিরে ফেলা হয় গোটা গ্রাম। জঙ্গলের প্রতিটি কোণ একেবারে তন্ন তন্ন করে খুঁজছিলেন সেনারা। আর সেই অভিযানেই ছত্রভঙ্গ হয়ে এদিক-ওদিক ছুড়তে থাকেন মাওবাদীরা। তাতেই সামনে পেয়ে একসাথে 12 জনকে গুলি করে নিকেশ করে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। পরবর্তীতে আরও দুজনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে।
অবশ্যই পড়ুন: ২১ বছর বয়সে ২.৫ কোটির বেতনের চাকরি! নজির গড়ল IIT হায়দ্রাবাদের ছাত্র
সূত্রের খবর, সুকমার পুলিশ সুপার কিরণ চৌহানের তত্ত্বাবধানেই এই অভিযান চলেছিল। জানা গিয়েছে, পুলিশ এবং সেনা সদস্যদের গুলিতে যারা মারা গিয়েছেন সেইসব মাওবাদীদের মধ্যে রয়েছেন কন্তা এরিয়া কমিটির সম্পাদক মাংডু। এছাড়া বাকি নিহতদের পরিচয় এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।
তবে নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে খবর, মাওবাদী দমন অভিযানে পৃথক এলাকায় 14 জনকে নিকেশ করার পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে একটি এসএলআর, কয়েকটি রাইফেল সহ অন্যান্য একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গোয়েন্দাদের অনুমান, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়ার পর এখনও কয়েকজন মাওবাদী ওই জঙ্গলেই লুকিয়ে রয়েছে। তাঁদের খোঁজেই গোটা জঙ্গলে চলছে তল্লাশি অভিযান।
অবশ্যই পড়ুন: গঙ্গাসাগর মেলায় শিয়ালদা থেকে ৩৩ জোড়া ট্রেন, বড় উপহার দিল পূর্ব রেল
উল্লেখ্য, এর আগে গত বছর নিরাপত্তা বাহিনীর জোরালো অভিযানে বস্তার, বিজপুর সহ একাধিক এলাকা মিলিয়ে কমপক্ষে 285 জন মাওবাদীকে নিকেশ করা হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে 257 জনকে বস্তার, বীজপুর এলাকায় এবং বাকিদের রায়পুর ডিভিশনে খতম করা হয়েছিল বলেই সূত্রের খবর। এদিকে মাওবাদী দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর এই সাফল্য প্রশংসা কুড়িয়েছে নানা মহলে।