ছাপিয়ে যাবে প্যারিসের লুভরকেও, দিল্লিতে খুলছে বিশ্বের বৃহত্তম জাদুঘর যুগে যুগীন ভারত

Yuge Yugeen Bharat Museum

সৌভিক মুখার্জী, নয়াদিল্লি: ভারতের ইতিহাস মানেই হাজার হাজার বছরের পুরনো সভ্যতা, সংস্কৃতি আর ঐতিহাসিক গল্প। আর সেই দীর্ঘযাত্রাকে এক ছাদের তলায় নিয়ে আসতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। হ্যাঁ, খুব শীঘ্রই নয়া দিল্লিতে বিশ্বের সবথেকে বড় জাদুঘর ‘যুগে যুগীন ভারত মিউজিয়াম’ (Yuge Yugeen Bharat Museum) খুলতে চলেছে। আর এই মিউজিয়াম শুধুমাত্র ভারতের জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে নতুন অধ্যায় যোগ করব বলেই মত প্রকাশ করছে ওয়াকিবহাল মহল।

রাইসিনা হিলসে ‘যুগে যুগীন ভারত’

নয়াদিল্লির রাইসিনা হিলস, যে জায়গা থেকেই বছরের উপর বছর দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এবার সেখানেই বিশাল সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন হতে চলেছে। হ্যাঁ, ব্রিটিশ আমলে তৈরি ঐতিহাসিক ব্লক এবং সাউথ ব্লক ভবনে এই মিউজিয়াম গড়ে উঠবে। আর সবথেকে বড় বিষয়, এই প্রকল্পের জন্য কোনও নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে না, বরং ঐতিহ্যবাহী ভবনগুলিকেই আধুনিক মিউজিয়ামে রূপান্তর করা হবে।

বেশ কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ দিকে নর্থ ব্লকে মিউজিয়ামের প্রথম গ্যালারি সাধারণ দর্শকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। আর এই গ্যালারিতে থাকবে ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্ম এবং ঐতিহাসিক নিদর্শন, যা ভারতের সংস্কৃতি, ভাবধারা এবং সভ্যতার ঐতিহ্যকে তুলে ধরবে। এমনকি আয়তনের দিক থেকে এই মিউজিয়াম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জাদুঘর প্যারিসের লুভর মিউজিয়ামকেও ছাপিয়ে যাবে বলেই দাবি করা হচ্ছে।

এদিকে ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ দ্য এজেন্স অফ ইন্ডিয়ান নামে পরিচিত এই প্রকল্পটি প্রায় ১.৫৫ লক্ষ বর্গমিটার জুড়ে বিস্তৃত হবে। যার মধ্যে ৮০ হাজার বর্গমিটার জায়গা শুধুমাত্র প্রদর্শনের জন্যই বরাদ্দ থাকবে। আর এখানে ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ প্রাচীন নিদর্শন এবং শিলাবস্তু রাখা হবে। যার মধ্যে সিন্ধু সভ্যতা থেকে শুরু করে আধুনিক ভারতের ইতিহাসের নানা রকম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত থাকবে।

ধাপে ধাপে খুলবে ৩০টি থিমভিত্তিক গ্যালারি

জানা যাচ্ছে, পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে এখানে ৩০টি থিমভিত্তিক গ্যালারি খোলা হবে। আর প্রতিটি গ্যালারি ভারতের ইতিহাসের নির্দিষ্ট সময়কাল এবং বিষয়কে কেন্দ্র করেই সাজানো হবে। সেক্ষেত্রে সভ্যতার নিদর্শন, বিজ্ঞান, শিল্পকলা, সাংস্কৃতির বিভিন্ন পর্যায় যুক্ত থাকছেই। এদিকে আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, মিউজিয়ামটি পুরোপুরি ভাবে চালু হলে প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি পর্যটক এখানে আসবে। আর দেশীয় পর্যটকদের পাশাপাশি বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষণও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে শপিং কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঝলসে মৃত্যু ৩ জনের, আহত বহু

সবথেকে বড় ব্যাপার, দর্শকদের সুবিধার জন্য এখানে প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ডিজাইন করা পথ থাকবে। সাথে আধুনিক প্রদর্শনী ব্যবস্থা এবং তথ্যভিত্তিক ডিজিটাল গাইড দেওয়া হবে। এছাড়াও নর্থ ব্লক এবং সাউথ ব্লককে যুক্ত করার জন্য একটি আন্ডারগ্রাউন্ড টানেলের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা কালচারাল করিডর হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

Leave a Comment