প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সামনেই ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন, আর সেই নির্বাচনকে পাখির চোখ করে একেবারে উঠে পড়ে লেগেছে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি। মাঝে রাজনৈতিক মঞ্চে একের পর এক চমকও এসেছে। কিছুদিন আগেই দল থেকে সাসপেন্ড হয়ে হুমায়ুন কবীর আলাদা দল গঠন করেছিলেন, নাম রেখেছেন জনতা উন্নয়ন পার্টি। টার্গেট ২০২৬ এর নির্বাচনে অন্তত ৯০ টি আসনে জয়লাভ করা। আর এই আবহে বামফ্রন্টকেই জোট গঠনের জন্য ভরসা করতে চাইছে হুমায়ুন কবীর। তাই তাঁর সঙ্গে বৈঠকে বসলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Salim Meets Humayun Kabir)।
সেলিম এবং হুমায়ুনের বৈঠক
উল্লেখ্য, তৃণমূল এবং বিজেপি বিরোধী দলগুলিকে নসাৎ করতে সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তিকে একছাতার তলায় নিয়ে এসে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করতে চায় সিপিএম। এমনই যুদ্ধের বার্তা বিগত কয়েক মাস ধরে দিয়ে চলেছেন মহম্মদ সেলিম থেকে শুরু করে দলের অন্য নেতারা। আর সেই লড়াইয়ে এবার পাশে পেতে বাবরি মসজিদের নামে ভোট চাওয়া হুমায়ুন কবীরকেই ভরসা করতে চাইছে বামফ্রন্ট। সেই কারণে গতকাল অর্থাৎ বুধবার, নিউটাউনের একটি হোটেলে জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তবে জোট গঠন করে একসঙ্গে ভোটে লড়বেন কি না সেই নিয়ে কিছুই খোলসা করেননি সেলিম।
সংবাদিকদের মুখোমুখি সেলিম-হুমায়ুন
হুমায়ূন কবীরের সঙ্গে বৈঠক শেষে মহম্মদ সেলিম সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি বলেন, “বহুদিন ধরেই নানাভাবে বার্তা পাঠাচ্ছিলেন হুমায়ূন। তাঁর বক্তব্য শুনতে এবং তাঁকে বুঝতে আসা। তবে এই বৈঠক জোট-বৈঠক নয়। যা আলোচনা হয়েছে তা দলকে জানাব। সিদ্ধান্ত দলের।” তবে বৈঠক নিয়ে হুমায়ুন বেশ স্পষ্ট। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিধানসভা নির্বাচন নিয়েই আলোচনা হয়েছে। বামেদের সঙ্গে জোট বাঁধতে তিনি প্রস্তুত। এদিকে নওশাদ দীর্ঘদিন ধরেই বামেদের সঙ্গে জোটে আগ্রহী, একাধিকবার আলিমুদ্দিনে বৈঠকও করেছেন। তাই নওশাদকেও পাশে চাইছেন হুমায়ুন। এখন দেখার পালা এই আলোচনা কতটা সুদূরপ্রসারী হয়।
আরও পড়ুন: এক হাজার কোটির ব্যাঙ্ক জালিয়াতি! সাতসকালে কলকাতায় CBI হানা, নজরে দুই ব্যবসায়ী
প্রসঙ্গত, ধর্মনিরপেক্ষ সিপিএমের সঙ্গে বাবরির নামে ভোট চাওয়া হুমায়ুনের জোট বৈঠক স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। সেলিম যতই অস্বীকার করুন না কেন, হুমায়ুনের সঙ্গে এই বৈঠক শাসকদল এবং বিজেপিকে বেশ ভাবাচ্ছে। ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম সাম্রাজ্যের পতন হওয়ার পর বর্তমানে শূন্যে অবস্থান করছে সিপিএম। তবে বিধানসভা নির্বাচনে বামেরা খাতা খুলবে পারবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান দলের শীর্ষনেতারাই।