ছিনতাইয়ের অভিযোগ! ED-র মামলায় যুক্ত মুখ্যমন্ত্রীও, পাল্টা ‘চুরি’ তত্ত্ব তুললেন মমতা

Calcutta High Court

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বৃহস্পতিবার, I-PAC-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের অফিস এবং লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে ED হানা দেওয়ায় সকাল থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ বেশ চড়ছিল। আর সেই তল্লাশির মাঝেই কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে পৌঁছে যান কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ঠিক তার পরেই ঘটে এক নজিরবিহীন ঘটনা। সবুজ রঙের একটি ফাইল নিয়ে তড়িঘড়ি বাইরে বেরিয়ে আসেন মমতা। এবার সেই নিয়ে মামলা উঠল হাইকোর্টে (Calcutta High Court)।

জোড়া মামলার শুনানি আজ!

ইডি আধিকারিকরা অভিযোগ করেন যে, সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে আচমকাই সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাজির হন। তড়িঘড়ি করে বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়েন তিনি। নথি ছিনতাইও করেন। তাই গতকালই মামলা দায়ের করতে চেয়ে হাই কোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা। জানা গিয়েছে, আজ এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি দুপুর আড়াই টায় হতে পারে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে। ইডির আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী জানিয়েছেন, তাঁদের করা মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যুক্ত করা হচ্ছে। কারণ, ইডির তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ বেসরকারি কর্মীদের ন্যূনতম পেনশন হতে পারে ৫০০০ টাকা! বড় সিদ্ধান্তের পথে EPFO

ED-র বিরুদ্ধে FIR মুখ্যমন্ত্রীর

শুধু ED নয়, হাই কোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে এদিন তৃণমূল কংগ্রেস ED-র বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করেছে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ জানিয়েছেন, ইডি ও তৃণমূলের জোড়া মামলার একসঙ্গে শুনানি হবে। অন্যদিকে প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে তল্লাশির ঘটনায় শেক্সপীয়র সরণি থানায় দুটি মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে একটিতে অভিযোগকারী মুখ্যমন্ত্রী নিজে। অন্য মামলাটি পুলিশ নিজের উদ্যোগে দায়ের করেছে। মামলার অভিযোগে চুরি, জোর করে বাড়িতে প্রবেশ এবং ইলেকট্রনিক তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার মতো ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: দার্জিলিংয়ের পরেই দক্ষিণবঙ্গের এই জেলায় সবথেকে বেশি ঠান্ডা, কলকাতায় কত?

প্রসঙ্গত, গতকাল I-PAC-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের অফিস এবং লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে ED হানা দেওয়ার প্রতিবাদে আজ দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল সাংসদরা। ছিলেন ডেরেক ও’ ব্রায়েন, মহুয়া মিত্র, কীর্তি আজাদ, শতাব্দী রায়রা। সেই সময়ই তাঁদের দিল্লি পুলিশ হেনস্থা করে বলে অভিযোগ। টেনে হিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁদের। তাঁদের সকলকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর।

Leave a Comment