প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গতকাল অর্থাৎ সোমবার ছিল দেশের ৭৭ তম প্রজাতন্ত্র দিবস। দেশ জুড়ে যখন সকল ভারতবাসী এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে আনন্দে মেতে উঠেছে সেই সময় বাঁকুড়া জেলার তিউড়া গ্রামে নেমে এল শোকের ছায়া। জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় বর্ধমানের জাতীয় সড়কে এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে সেনা জওয়ান (Army Died In Road Accident) মানস মণ্ডলের। ছুটি শেষে কর্মস্থল লাদাখে ফেরার পথেই প্রাণ হারালেন তিনি। কান্নায় ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন স্ত্রী ও সন্তান।
ঠিক কী ঘটেছিল?
স্থানীয় রিপোর্ট মোতাবেক, বাঁকুড়া জেলার সোনামুখী থানার অন্তর্গত তিউড়া গ্রামের বাসিন্দা মানস মণ্ডল হলেন এক ভারতীয় সেনা জওয়ান। বর্তমানে তিনি লাদাখে কর্মরত ছিলেন। বেশ কয়েকদিন ছুটি থাকায় গ্রামে সপরিবারে ঘুরতে এসেছিলেন। এরপর দেড় মাসের ছুটি কাটিয়ে বাড়িতে ফেরার পথেই ঘটল ভয়ংকর মৃত্যু। গতকাল, কলকাতা বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাওয়ার পথেই পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর থানার অন্তর্গত আবুঝাটি এলাকায় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে তাঁর গাড়ি আচমকা দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ব্রেক কাজ না করায় ডিভাইডারে ধাক্কা মারলে গাড়িতে থাকা চারজনই গুরুতর আহত হন।
অল্পের জন্য বিপদমুক্ত স্ত্রী ও সন্তান
ভয়ংকর গাড়ি দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জামালপুর থানার পুলিশ এবং আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজে পাঠায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেনা জওয়ান মানস মণ্ডলের মৃত্যু হয়। তবে অল্পের জন্য প্রাণ রক্ষা হয় স্ত্রী ও সন্তানের। মৃত্যুর খবর তিউরা গ্রামে পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পরে গোটা গ্রাম। জানা গিয়েছে, আজ সেনার মৃতদেহ গ্রামে নিয়ে আসা হবে। তাই সকাল থেকেই সেনার ওই গ্রামের বাড়িতে অসংখ্য মানুষের ভিড় দেখা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: দেহের গন্ধ ঢাকতে খুনের পর দেওয়া হয় নুন! দুর্গাপুরে উদ্ধার আয়ার দেহ
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই, জম্মু-কাশ্মীরের ডোডা জেলার খনি ভগরবাত এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি ক্যাম্পের দিকে ফেরার সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। আর ওই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মোট ১০ জন সেনা জওয়ানের। মৃতদের মধ্যে ছিলেন ঝাড়গ্রাম জেলার সাঁকরাইল ব্লকের রগড়া অঞ্চলের কুচলাদাঁড়ি গ্রামের বাসিন্দা ২৮ বছরের সমীরণ সিং। আহত হন আরও ৬ জন। এমতাবস্থায় সমীরণের মৃত্যু হয়েছে বলে জানার পরেই শোকের ছায়া নামে কুচলাদাঁড়ি গ্রামে।