বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: অপারেশন সিঁদুর চালিয়ে পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি (Indus Waters Treaty) বাতিল করে পশ্চিমের দেশকে সব দিক থেকে নাকাল করেছে নয়া দিল্লি! পাকিস্তান অবশ্য গতবছর থেকে বেশ কয়েকবার নরমে গরমে জল চুক্তি পুনর্বহাল করার দাবি জানিয়ে আসছে। তবে ভারতের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রক্ত এবং জল একসাথে বইতে পারে না। পাকিস্তানের সাথে যদি কিছু নিয়ে বৈঠক হয় তবে তা হবে সীমান্ত সন্ত্রাস বন্ধ করার বিষয়ে। এসবের পর এবার জম্মু ও কাশ্মীরের পাহাড়ে বিরাট পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্র। তাতে চাপে পড়বে ইসলামাবাদ!
জম্মু ও কাশ্মীরের পাহাড়ে বিরাট প্ল্যান ভারতের!
এই মুহূর্তে চন্দ্রভাগা নদীতে চারটি বিরাট হাইড্রোপাওয়ার প্রজেক্ট চলছে ভারতের। এবার সেই প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিল নয়া দিল্লি। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের 31 ডিসেম্বরের মধ্যে পাকাল দুল এবং কিরু প্রোজেক্টের কাজ শেষ করতে হবে। অন্যদিকে বাকি দুটি বাঁধের মধ্যে কাওয়ার প্রজেক্ট এর কাজ আগামী 2028 সালের মার্চ মাসের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে। চতুর্থ প্রজেক্টের কাজও দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
বলাই বাহুল্য, সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীর সফরে গিয়েছিলেন কেন্দ্রের বিদ্যুৎ, আবাসন এবং নগর বিষয়ক মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর। দুদিনের জম্মু ও কাশ্মীর সফরে নির্মীয়মান একাধিক বাঁধ পরিদর্শন করেন তিনি। সেই সাথে যত দ্রুত সম্ভব ওই বাঁধগুলির কাজ যাতে শেষ হয় সেই নির্দেশও দিয়ে এসেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। কেন্দ্রের বিদ্যুৎ শক্তি মন্ত্রীর নির্দেশে কাজের গতি আরও বাড়বে বলেই আশা করছেন অনেকে।
অবশ্যই পড়ুন: রাজীব কুমারের পর কে হবেন নতুন ডিজিপি? রাজ্যকে সুপ্রিম কোর্টে যেতে বলল UPSC
চাপে পড়বে পাকিস্তান?
পাকিস্তানের লাইফ লাইন বলা হয় হিন্দু অববাহিকার অংশ চন্দ্রভাগা বা চেনাব নদীকে। এতদিন পাকিস্তানে জলের যে চাহিদা তার তিন-চতুর্থাংশই মেটাতো ভারত। আসলে সিন্ধুর জলের উপর নির্ভর করে পাকিস্তানের 90 শতাংশ কৃষিকাজ সম্পন্ন হতো। এই সিন্ধু নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে বিভিন্ন বাঁধ এবং খাল। তবে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি স্থগিত করে দেওয়ায়একপ্রকার শুকিয়ে কাঠ হওয়ার অবস্থা পাকিস্তানের!
পাকিস্তানের সাথে সংঘাতে জড়ানোর পর ভারত সরকার সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ধুর জলকে আরও বেশি করে অভ্যন্তরীণ কাজে ব্যবহার করতে হবে। সেই মতোই একে একে গড়ে উঠছে সব বাঁধ। না বললেই নয়, এই মুহূর্তে সিন্ধু অববাহিকায় ভারতের যে বাঁধের কাজগুলি চলছে তার মধ্যে অন্যতম হলো কিস্তওয়ারের পাকাল দুল হাইড্রোপাওয়ার প্রজেক্ট। চন্দ্রভাগার উপরে নির্মীয়মান বাঁধ প্রকল্প 1000 মেগাওয়াটের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।
অবশ্যই পড়ুন: জানুয়ারি মাসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা কবে ঢুকবে? সামনে এল বড় আপডেট
সবচেয়ে বড় কথা, এটি দেশের উচ্চতম বাঁধও। তাই যত দ্রুত সম্ভব এই বাঁধ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 2028 সালের মে মাসে এই বাঁধ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তার আগেই এটি সম্পূর্ণরূপে তৈরি করতে হবে বলেই নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বাকিগুলোর ক্ষেত্রেও যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করার নির্দেশ এসেছে। আর এই বাঁধগুলিই পাকিস্তানের জন্য একপ্রকার কাল হয়ে দাঁড়াবে, বলছে ওয়াকিবহাল মহল।