‘জয় শ্রী রাম’ না বললে সিগারেটের ছ্যাকা, চাকদহে আক্রান্ত মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক

Beldanga

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: কয়েকমাস আগে শিরোনামে উঠে এসেছিল ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার সংক্রান্ত খবর। শাসকদলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা বাংলায় কথা বলায় তাঁদের উপর অত্যাচার করছে। সেই সময় এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক শিবিরে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে এবার পশ্চিমবঙ্গেই ভয়ংকর অভিযোগ উঠে এল। ধর্মীয় পরিচয় জেনে রীতিমত বেলডাঙার (Beldanga) এক সংখ্যালঘুকে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠল। মারধর করে জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ বলার চাপ দেওয়া হল যুবককে।

ঠিক কী ঘটেছিল?

রিপোর্ট অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থেকে মাড্ডা গ্রামের ১২ জন যুবক শ্রমিকের কাজ করতে যাচ্ছিলেন ওড়িশায়। ট্রেনে চেপে যাচ্ছিলেন তাঁরা। মাঝপথে চাকদহ স্টেশনে কয়েক জন স্থানীয় যুবকের সঙ্গে আচমকা তাঁদের মধ্যে বচসা বাধে। অভিযোগ স্থানীয় কিছু যুবক বাবরি মসজিদ নিয়ে নানা কুমন্তব্য করতে থাকায় ওই যুবক শ্রমিকরা প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিপদে পড়তে হয়। মারধর করা হয় শ্রমিকদের। আক্রান্ত যুবকের অভিযোগ, তাঁর ও সঙ্গীদের বাড়ি মুর্শিদাবাদ ও ধর্মীয় পরিচয় জানার পরেই হেনস্থা শুরু হয়। এবং ট্রেন থেকে নামিয়ে টোটোতে চাপিয়ে একটি নির্জন খেলার মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। আর সেখানে তাঁকে ‘জয় শ্রীরাম’ বলার জন্য চাপ দেওয়া হয়।

হাসপাতালে ভর্তি যুবক

ধর্মীয় পরিচয় জেনে এইভাবে যুবককে হেনস্থা করায় প্রথমে তাঁকে মারধর করা হয়। দুষ্কৃতীরা তাঁর শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেয়। ভয়ে শেষ পর্যন্ত ওই যুবক স্লোগান দিতে বাধ্য হন। শেষে আক্রান্ত যুবককে ওই নির্জন জায়গায় ফেলে রেখে চলে যায় দুষ্কৃতীরা। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় ওই যুবক স্টেশনে পৌঁছোন এবং ট্রেন ধরে পুনরায় বেলডাঙায় ফিরে আসেন। এরপর স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। শেষ আপডেট অনুযায়ী তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ আছেন। আর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে এলাকা জুড়ে।

আরও পড়ুন: মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ, সাথে আরও, কসবা গণধর্ষণ কাণ্ডে চার্জশিট পেশ! বিচার কবে?

কী বলছেন হুমায়ুন কবীর?

সংখ্যালঘু এক ব্যক্তিকে এইভাবে জয় শ্রীরাম বলার জন্য চাপ দেওয়ায় জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর শাসকদলের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “সংখ্যালঘুদের ভোটে ক্ষমতায় আছে তৃণমূল। অথচ পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে ধর্মীয় কারণে মার খেতে হচ্ছে। প্রশাসন কোথায়?’’ যদিও তৃণমূল এই দোষ অস্বীকার করে এবং বিজেপিকে কাঠগড়ায় তোলে। তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান নিয়ামত শেখ বলেন, “বিজেপি-আরএসএসের বিরুদ্ধে আমাদের নেত্রী ক্রমাগত লড়াই করছেন। তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলায় এ ধরনের ঘটনা কিছুতেই বরদাস্ত করা হবে না।’’

Leave a Comment