সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বন্দে ভারতের পর এবার বুলেট ট্রেন (Bullet Train India), সাধারণ মানুষের উত্তেজনা তুঙ্গে। এমনিতে যত সময় এগোচ্ছে ততই ভারতের রেল ব্যবস্থায় একের পর এক বিপ্লব ঘটছে। যার অন্যতম নিদর্শন হল বুলেট ট্রেন। কেউ হয়তো ভাবতেও পারেনি যে বুলেট ট্রেনের মতো বিশ্বের সবথেকে দ্রুতগামী ট্রেন এখন ভারতের বুক চিড়ে ছুটবে। যাইহোক, এখন এই নিয়ে মেগা আপডেট সামনে এসেছে। শোনা যাচ্ছে, এবার হয়তো জলের নিচে দিয়েও ছুটতে পারে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন। আর এর জন্য দানবীয় মেশিন নিয়ে আনা হয়েছে। চলুন বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
এবার জলের নিচেও চলবে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন?
মুম্বাই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। রেল মন্ত্রক ২০২৭ সালের মধ্যে কিছু অংশে বুলেট ট্রেনটি চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সম্প্রতি ন্যাশনাল হাই-স্পিড রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (NHSRCL) মুম্বাই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে বলেছে যে, ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেলের পাঁচ কিলোমিটারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নিউ অস্ট্রিয়ান টানেলিং মেথড ব্যবহার করে টানেলটি খনন করা হচ্ছে। টানেলের কাজ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। সেইসঙ্গে এখন ১৩.৬৫ মিটারের টানেল বোরিং মেশিন (TBM) ভারতে এসে পৌঁছেছে। এটি বুলেট ট্রেনের জন্য ব্যবহার করা হবে বলে খবর।
The 21-kilometer-long tunnel, a key component of India’s first bullet train corridor, is making steady progress. Excavation of a 5-kilometer section has been successfully completed using the New Austrian Tunneling Method (NATM). With excavation complete, the project has moved… pic.twitter.com/TMxJQR3SoL
— IANS (@ians_india) April 4, 2026
বিশেষত্ব কী?
প্রোজেক্টের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মহামেশিন দিয়ে ৭ কিমি সমুদ্র টানেল তৈরি হবে। অ্যাসেম্বল করতে ১৫০+ ট্রেলার এবং প্রায় ৯০ দিন লাগবে। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে TBM এর কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ১৩.৬৫ মিটার ব্যাসের টানেল বোরিং মেশিনটি কোনো সাধারণ মেশিন নয়, বরং এটি একটি আধুনিক টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম)। ভারতে এই প্রথম ১৩.৬৫ মিটার ব্যাসের এত বড়, মিক্সড-শিল্ড টানেল বোরিং মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। এই কারণেই এটিকে ‘মহামেশিন’ বলা হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণরূপে একত্রিত করতে প্রায় ৯০ দিন সময় লাগবে।
আরও পড়ুনঃ উত্তর সিকিমে ভয়াবহ ধসে ভেঙে পড়ল নবনির্মিত সেতুর একাংশ, আটকে বহু পর্যটক
এক রিপোর্ট অনুযায়ী, যন্ত্রটির সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো এর নিরাপত্তা এবং নির্ভুলতা। প্রচলিত পদ্ধতিতে টানেল খনন ঝুঁকিপূর্ণ হলেও, টিবিএম নিরাপদে এবং বিস্ফোরক ছাড়াই খনন করতে সাহায্য করবে। অন্যদিকের মুম্বাই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পের অধীনে নির্মিতব্য ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ টানেলের নির্মাণকাজ গতি পেয়েছে। টানেলটি বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্স (BKC) এবং শিলফাটার মধ্যে নির্মিত হচ্ছে, যার মধ্যে নিউ অস্ট্রিয়ান টানেলিং মেথড (এনএটিএম) ব্যবহার করে ৫ কিলোমিটার অংশের খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে। একাধিক তথ্য অনুযায়ী, ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এনএটিএম অংশটি ঘানসোলি এবং শিলফাতার মধ্যে অবস্থিত। খনন পর্ব শেষ হওয়ার পর, টানেল নির্মাণের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।