বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বন্দে মাতরম’ কি এবার জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন অধিনায়ক’ এর মতো মর্যাদা পেতে পারে? মূলত এমন প্রশ্নই ময়দানে নেমেছে কেন্দ্রীয় সরকার (Government On Vande Mataram)। জানা যাচ্ছে, দেশের জাতীয় সঙ্গীতের মতোই বন্দে মাতরমকে একই সুতোয় গাঁথা যায় কিনা সে বিষয়টাই বিবেচনা করে দেখছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। এবিপি নিউজের রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি জানুয়ারিতেই এ নিয়ে বৈঠকে বসবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন অন্যান্য মন্ত্রিসভার প্রতিনিধীরাও।
সত্যিই কি জাতীয় সংগীতের মতো মর্যাদা পাবে বন্দে মাতরম?
গত নভেম্বরেই, 150 বছর পূর্ণ হয়েছে বঙ্কিমচন্দ্রের বন্দে মাতরমের। এই দেশাত্ববোধক গানের 150 বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে জাতীয় স্তরের সঙ্গীতটিকে জনগণমন র মতো মর্যাদা দেওয়া যায় কিনা সেটাই বিবেচনা করার পথে কেন্দ্রীয় সরকার। জাতীয় সঙ্গীতের ক্ষেত্রে যেসব আইন কানুন নির্দিষ্ট করা রয়েছে, বন্দে মাতরমের ক্ষেত্রেও সেইসব আইন, নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত কিনা এসব নিয়েই আলোচনা হবে আসন্ন বৈঠকে।
1875 সালে প্রথমবারের মতো লেখা হয়েছিল এই গান। পরবর্তীতে এটি প্রকাশিত হয় 1882 সালে। এই দেশাত্মবোধক গান স্থান পেয়েছিল জনপ্রিয় উপন্যাস আনন্দমঠে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, 1896 সালে গিয়ে নিজের উচ্চকণ্ঠে এই গান গেয়েছিলেন খোদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। গানটি যেহেতু ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে পুরোপুরি জড়িত ছিল সে কারণে এই গানকেও জাতীয় সঙ্গীতের সমান মর্যাদা এবং স্বীকৃতি দিয়েছে দেশের সংবিধান। তবে এই মুহূর্তে এই গানটি পাঠ করা কিংবা গাওয়ার জন্য আলাদা কোনও নির্দেশ বা আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে বন্দে মাতরমের ক্ষেত্রে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা কিংবা আইনি নির্দেশ চালু করা যায় কিনা বা এর প্রয়োজনীয়তা আদৌ আছে কিনা সবটাই উঠে আসবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বৈঠকে।
এও শোনা যাচ্ছে, জাতীয় সংগীত নিয়ে কোনও অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য কিংবা জাতীয় সঙ্গীতের বিরুদ্ধে যায় এমন কোনও ভাষ্য বা অবমাননার ক্ষেত্রে যে নির্ধারিত শাস্তি রয়েছে তা বন্দেমাতরমের ক্ষেত্রে চালু করা উচিত কিনা সেটাও ভেবে দেখবে কেন্দ্রীয় সরকার। একই সাথে, 2022 সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃত বাধা যেমন আইনত অপরাধ, ঠিক তেমন কোনও নিয়ম বা বাধ্যবাধকতা বন্দেমাতরমের ক্ষেত্রে চালু করা যায় কিনা সেদিকেও নজর থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের। বলাই বাহুল্য, ভারতীয় সংবিধানের 51এ ধারায় বলা আছে, জাতীয় সঙ্গীতকে সম্মান করা প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক কর্তব্য। তবে বন্দে মাতরমের ক্ষেত্রে এমন কোন নিয়ম নেই। সেটাও মাথায় নিয়েই এগোচ্ছে কেন্দ্র। সব মিলিয়ে বলা যায়, জাতীয় সঙ্গীত জনগণমনর মতোই এবার বন্দে মাতরমকেও সম্মান জানাতে উঠে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করার নতুন আইন চালু হয়ে যেতে পারে….
অবশ্যই পড়ুন: এক-দুই নয়, নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে চারটি বিশ্বরেকর্ড গড়ল ভারত
উল্লেখ্য, দেশাত্মবোধক গান বন্দে মাতরমের 150 বছর পূর্ণ হওয়ায় টানা এক বছর ধরে জাতীয় স্তরের এই গানের উদযাপন চলবে বলেই পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই মতোই, গত নভেম্বরে প্রথম ধাপ সম্পন্ন করার পর চলতি মাসে দ্বিতীয় ধাপ সম্পন্ন হলে তৃতীয় ধাপ সম্পন্ন হবে চলতি বছরের আগামী আগস্ট নাগাদ এবং সবশেষে নভেম্বরে গিয়ে শেষ ধাপ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা চলছে। আর এই বিশেষ উদযাপনের মধ্যে দিয়েই বন্দে মাতরম গানটিকে সম্মান জানাতে প্রয়োজনীয় যা যা করা দরকার সবটাই করবে নরেন্দ্র মোদি সরকার।