সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পাকিস্তানকে ফের ঝটকা দিল ভারত। হ্যাঁ, সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি স্থগিতের পর জম্মু কাশ্মীরের চেনাব নদীর উপর এবার বৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ (Chenab Dam Project) দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে নয়াদিল্লি। জানা গিয়েছে, বহুদিন ধরে পরিকল্পনার আওতায় থাকা এই সওয়ালকোট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ এবার গতি পেয়েছে। ইতিমধ্যেই এর জন্য ৫১২৯ কোটি টাকার টেন্ডার জারি হয়েছে।
সূত্রের খবর, রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সংস্থা ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন চেনাব নদীর উপর এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করার জন্য মোট ৫১২৯ কোটি টাকার টেন্ডার ডেকেছে। এ থেকে স্পষ্ট উঠে আসছে যে, সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি স্থগিত হওয়ার পর নয়াদিল্লি আবারও নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে চলেছে। জানা গিয়েছে, এই প্রকল্প থেকে মোট ১৮৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করার লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি কেন্দ্র সরকার এটিকে বৃহত্তর প্রকল্প হিসেবেই দেখছে। এমনকি সিন্ধু জলবন্টন চুক্তির কাঠামোর মধ্যে থেকেই ভারতের জল সম্পদ ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
কবে কাজ শেষ হবে এই প্রকল্পের?
এখনও পর্যন্ত যা খবর, তাতে টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী জমা দেওয়া বিড ১৮০ দিন পর্যন্ত থাকবে। আর প্রকল্প সম্পন্ন করতে মোট ৩২৮৫ দিন সময় ধরা করা হয়েছে। অর্থাৎ, এটি যে দীর্ঘমেয়াদি নির্মাণপর্ব তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে হ্যাঁ, ড্যাম, টানেল বা সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণের জন্য আগামী ১২ মার্চ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত বিড জমা দেওয়া যাবে। বিশেষ করে দেশের প্রাপ্য নদীর জলসম্পদ কাজে লাগাতে জোর দেওয়ার জন্যই এবার কেন্দ্রীয় সরকার এই বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে। কারণ, বহু বছর ধরে আলোচনায় থাকলেও সম্প্রতি ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে এই প্রকল্প আবার নতুন করে গতি পেয়ছে। এমনকি এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে জম্মু কাশ্মীরের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা যে কয়েকগুণ বাড়বে তাও বলার অপেক্ষা রাখে না। আর দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহের চাহিদাও অনেকটাই পূরণ হবে।
আরও পড়ুন: বকেয়া না মেটালে…! বাংলাদেশকে চিঠি পাঠিয়ে চরম হুঁশিয়ারি আদানি গোষ্ঠীর
বলাই বাহুল্য, গত বছর পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি স্থগিত করেছিল ভারত। মূলত জঙ্গি হামলার শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তারপর থেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক দিনের পর দিন তলানিতে ঠেকে। এমনকি তার প্রভাব পড়ে ক্রিকেটের উপরেও। তবে এই প্রকল্প যে ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাকে আরও বাড়াবে তা আশাবাদী ওয়াকিবহাল মহল। এমনকি সরকারি সূত্র মতে, এই প্রকল্প রামবন জেলায় কর্মসংস্থান তৈরি করার পাশাপাশি স্থানীয় পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা নেবে। এখন দেখার, কবে নাগাদ এই প্রকল্প শেষ হয়।