সহেলি মিত্র, কলকাতা: হুগলীর আরামবাগবাসীর (Arambagh) জন্য দারুণ সুখবর। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে খুব শীঘ্রই দক্ষিণবঙ্গের এই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনটি জংশনের মর্যাদা পেতে চলেছে। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। সেইসঙ্গে আরামবাগ থেকে অপর একটি লাইনের জন্য টাকা অবধি বরাদ্দ করেছে রেল বলে খবর। বরাদ্দ হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। আরও বিশদে জানতে চোখ রাখুন আজকের এই প্রতিবেদনটির ওপর।
‘জংশন’-র তকমা পাচ্ছে আরামবাগ স্টেশন!
এমনিতে যত সময় এগোচ্ছে দেশের রেল ব্যবস্থায় একের পর এক বদল আনছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেখানে বাদ নেই বাংলাও। বিধানসভা ভোটের আবহে বাংলার একাধিক রেললাইন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলমন্ত্রক। রেল মন্ত্রক পশ্চিমবঙ্গে তিনটি নতুন রেলপথ প্রকল্পের জন্য চূড়ান্ত সার্ভের অনুমোদন করেছে, যার মোট দৈর্ঘ্য ১৭৮ কিলোমিটার, যা এই অঞ্চলে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য প্রথম বড় পদক্ষেপ। পূর্ব রেল অনুযায়ী, অনুমোদিত সার্ভেগুলি হলো রাজনগর ও বক্রেশ্বর ধাম হয়ে ৭৩ কিমি দীর্ঘ সিউড়ি–নালা লাইন, ২৭ কিমি দীর্ঘ আরামবাগ–খানাকুল লাইন, এবং ৭৮ কিমি দীর্ঘ রসুলপুর–গঞ্জালপাড়া লাইন।
রিপোর্ট অনুযায়ী, আরামবাগ–খানাকুল লাইনের জন্য কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রক ৮১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে বলে জানা গিয়েছে। রেলের তরফে মূলত আরামবাগ থেকে বৈচন্ডী হয়ে খানাকুল অবধি নতুন লাইনের সার্ভের জন্য এই টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে এই লাইন তৈরি হওয়ার পর থেকেই আরামবাগ স্টেশনে কপালে ‘জংশন’ স্টেশনের তকমা জুটবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বড় পদক্ষেপ রেলের
জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত সিউড়ি-নালা লাইনটি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলা এবং ঝাড়খণ্ডের জামতারা জেলার মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। এই লাইনের মধ্যে রাজনগর এবং বক্রেশ্বর ধামের মতো এলাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেগুলো বর্তমানে মূলত সড়ক পরিবহনের উপর নির্ভরশীল। অপরদিকে আরামবাগ-খানাকুল লাইন, উভয়ই হুগলী জেলার অন্তর্গত, দুটি স্থানের মধ্যে সংযোগ উন্নত করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। এই কাজের লক্ষ্য যানজট কমানো সেইসঙ্গে ধীর গতিতে বা দেরিতে ট্রেন চলা যাতে কম করা যায়।
আরও পড়ুনঃ ভরা মাঘে ৪ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস, আজকের আবহাওয়া
এর পাশাপাশি রসুলপুর-জঙ্গলপাড়া প্রকল্পের জন্য, রসুলপুরের মূল লাইনকে পাল্লা রোডের কর্ড লাইনের সাথে সংযুক্ত করার জন্য একটি নতুন বাইপাস লাইনের জন্য একটি চূড়ান্ত অবস্থান সার্ভে করা হবে। রেল আশাবাদী এই তিনটি নতুন রেললাইন প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গের সংশ্লিষ্ট অঞ্চল এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় রেল যোগাযোগ ও পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধন করবে।