জোয়ার আসবে বাণিজ্য থেকে পর্যটন শিল্পে! বাংলার নতুন রেলপথ নিয়ে বড় সুখবর

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বাংলার বুকে নতুন রেলপথ নিয়ে বড় সুখবর (West Bengal New Rail Line)। জানা যাচ্ছে, মানবাজার হয়ে পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম নতুন রেলপথ তৈরির আগেই হয়ে গেল বড় কাজ। রেল সূত্রে খবর, মানবাজারের মধ্য দিয়ে রেলপথ স্থাপনের প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ অর্থাৎ ফাইনাল সার্ভের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই একেবারে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছেন পুরুলিয়া (Purulia) থেকে শুরু করে স্থানীয় পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা।

তৈরি হবে মোট আটটি নতুন স্টেশন

রেলের তরফে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মানবাজারের মধ্যে দিয়ে যে নতুন রেলপথ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সেই রেলপথের মোট দৈর্ঘ্য হবে 125 কিলোমিটার। এই দীর্ঘ রূটে তৈরি হবে মোট 8টি নতুন রেল স্টেশন। এছাড়াও দুটি স্টেশনকে মূল লাইনের সাথে জুড়ে দেওয়া হবে। রেল সূত্রে খবর, পুরুলিয়ার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবিকে মান্যতা দিয়ে অবশেষে বিশেষ প্রকল্পের কাজে হাত লাগানো হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, আটটি স্টেশনের মধ্যে অর্ধেক অর্থাৎ চারটি স্টেশনেই তৈরি হবে পুরুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায়।

জানা গিয়েছে, নতুন রেলপথ নির্মাণের আগে মান বাজারের মধ্যে দিয়ে যেসব এলাকায় নতুন রেলস্টেশন তৈরি হবে সেইসব জায়গা ইতিমধ্যেই পরিদর্শন করে দেখেছেন রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এই পরিদর্শন চলাকালীন যে জমিতে রেলপথ তৈরি হবে সেইসব জমি থেকে শুরু করে পার্শ্ববর্তী এলাকার পরিবেশ সবই খতিয়ে দেখা হয়েছে।

 

কবে থেকে শুরু হবে লাইন পাতার কাজ?

রেলের ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ারের তরফে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মানবাজারের মধ্যে দিয়ে নতুন রেললাইন তৈরির আগে ফাইনাল সার্ভে ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। এই রিপোর্ট যাবে রেল মন্ত্রকের কাছে। সেখান থেকে সবুজ সংকেতের পর তিন মাসের মধ্যে প্রকল্পের বিস্তারিত বরাদ্দ ও প্রস্তাব রেলমন্ত্রকের কাছে উপস্থাপন করা হবে। পরবর্তীতে রেলমন্ত্রকের অনুমতি পেলে শুরু হয়ে যাবে রেললাইন পাতার কাজ। তবে ঠিক কবে থেকে এই কাজ শুরু হবে তা জানা যায়নি।

অবশ্যই পড়ুন: এই মুহূর্তে ISL-এ কোন দলের অবস্থা কেমন? কত নম্বরে ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান

প্রসঙ্গত, ভারতীয় রেলের নতুন উদ্যোগে উচ্ছসিত পুরুলিয়া থেকে শুরু করে মানবাজারের বাসিন্দারা। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রামের মধ্যে নতুন রেল লাইনের দাবি করে আসছিলেন। অবশেষে সেই দাবিতে সিলমোহর পড়ায় খুশি তাঁরা সকলেই। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, নতুন রেলপথ তৈরি হয়ে গেলে পুরুলিয়া এবং ঝারগ্রামের মধ্যে যোগাযোগ অনেকটাই পোক্ত হবে। বাড়বে বাণিজ্য। জোয়ার আসবে পর্যটন শিল্পেও।

Leave a Comment