ট্রাম্পকে পাল্টা চাপ, আমেরিকার ডালের উপর চুপিসারে ৩০% শুল্ক চাপাল ভারত

India–United States Relations

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে এবার নয়া মোড় (India–United States Relations)। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের উপর শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, অন্যদিকে আমেরিকার দুই প্রভাবশালী সাংসদ নীরবে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে ডাল বা পালস ফসল নিয়ে ছাড় আদায় করার জন্য হোয়াইট হাউসকে অনুরোধ করল।

পিটিআই সূত্রে খবর, রিপাবলিকান দলের দুই সেনেটর স্টিভ ডেইনস এবং কেভিন ক্রেমার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চিঠি লিখে ভারতের ডাল আমদানির উপর আরোপিত শুল্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। উল্লেখ্য, তাঁরা যথাক্রমে মন্টানা এবং নর্থ ডাকোটার সেনেটর। তাহলে কি আবারও নতুন কিছু অপেক্ষা করছে?

ডাল দিয়ে কেন বাড়ছে চাপ?

আসলে চিঠিতে বলা হয়েছে, মন্টানা এবং নর্থ ডাকোটা আমেরিকার ডাল উৎপাদনের শীর্ষ রাজ্য। আবার অন্যদিকে ভারত বিশ্বের সবথেকে বড় ডাল ভোক্তা দেশ। বিশ্বের মোট ডাল ব্যবহারের প্রায় ২৭ শতাংশই ভারতে হয়। তাঁরা অভিযোগ করছে, ভারত মুসুর ডাল, ছোলা, শুকনো সিম, মোটরের মতো ডালের উপর বেশি পরিমাণে শুল্ক বসিয়েছে। ফলত, মার্কিন কৃষকরা ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতায় অসুবিধায় পড়ছে। এমনকি তাদের দাবি অনুযায়ী, ভারত গত বছরের ৩০ অক্টোবর হলুদ মটরের উপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যা নভেম্বর থেকেই কার্যকর হয়। আর এই সিদ্ধান্তে আমেরিকার ডাল রপ্তানিকারকদের জন্য বিরাট ধাক্কা দেয়।

এদিকে চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের আরোপিত এই অনার্য শুল্কের কারণে আমেরিকার ডাল উৎপাদকরা ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতায় অসুবিধার মধ্যে পড়ছে। সেনেটরদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই এই শুল্ক মেটানো সম্ভব। এমনকি তা দুই দেশের পক্ষেই লাভজনক হবে। একদিকে মার্কিন কৃষকরা, অন্যদিকে ভারতীয় ভোক্তারা এতে লাভের মুখ দেখবে বলেই মত প্রকাশ করছে তাঁরা।

আরও পড়ুন: কাশ্মীরে সন্ত্রাসীদের সাথে ভয়াবহ গুলির লড়াই সেনার, গুরুতর আহত ৮ জওয়ান

মোদীকে ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠিয়েছেন ট্রাম্প

প্রসঙ্গত, ওই চিঠিতে পুরনো প্রসঙ্গ টেনে আনা হয়েছে। সেনেটররা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে ভারত সফরের আগে তারা একেই বিষয় নিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। আর সেই চিঠি নাকি ট্রাম্প নিজের হাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। উল্লেখ করার বিষয়, সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ভারতের উপর প্রায় ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এমনকি আরও শুল্ক চাপানোর কথা ভাবছেন তিনি। আর এই সিদ্ধান্তের পর থেকে ভারত আমেরিকার বাণিজ্য সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন দেখা গিয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে সেই ফাটল আরও স্পষ্ট।

Leave a Comment