বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: গ্রিনল্যান্ড দখল করতে একেবারে উঠে পড়ে লেগেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই কর্মকাণ্ডে তাঁকে যারা সমর্থন করছেন না তাঁদের দেখতে হচ্ছে আমেরিকার লাল চোখ! একই ঘটনা ঘটেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (European Union) 8টি দেশের সাথে। গ্রিনল্যান্ড দখলে আমেরিকার পদক্ষেপের সমর্থন না করায় এবার এই 8 দেশের উপর 10 শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আর তারপরই এবার আমেরিকার বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপের পথে হাঁটল ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলি।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধেই বড় পদক্ষেপের পথে ইউরোপের দেশগুলি
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে একটি জরুরী বৈঠকে এক জোট হয় ইউরোপের একাধিক দেশ। সেখানেই আলোচনা চলেছে ট্রেড বাজুকা বা প্রতিশোধমূলক শুল্ক প্রয়োগের বিষয় নিয়ে। প্রথমেই বলে রাখি, ট্রেড বাজুক আসলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রে থাকা এক বিশেষ বন্দোবস্ত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয় এমন দেশ যদি ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলির উপর চাপ তৈরি করে বা চাপ সৃষ্টি করে সে ক্ষেত্রে নিজেদের স্বার্থ সুনিশ্চিত করতে এই বিশেষ অস্ত্র বা প্রতিশোধমূলক শুল্ক প্রয়োগ করে দেশগুলি।
মনে করা হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজোয়ারি আর সহ্য করবে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন! সেক্ষেত্রে আমেরিকার বিরুদ্ধেও প্রতিশোধমূলক শুল্ক চাপানোর পথে হাঁটতে পারে ইউরোপের একাধিক দেশ। তবে যদি সেটা হয়, সে ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো আমেরিকার বিরুদ্ধেই এই বিশেষ ধারালো অস্ত্র প্রয়োগ করবে তারা! রবিবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো ট্রেড বাজুকা প্রয়োগের ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “পরিস্থিতি কঠিন। প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের ট্রেড বাজুকা প্রয়োগ করার সময় এসে গেছে।”
ইউরোপীয় দেশগুলির পদক্ষেপে কতটা ক্ষতি হতে পারে আমেরিকার?
ইউরোপীয় ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত দেশগুলো যদি শেষ পর্যন্ত আদতেই ট্রেড বাজুকা প্রয়োগ করে সেক্ষেত্রে আমেরিকার উপর চাপবে পাল্টা শুল্ক। এখানেই শেষ নয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশের উপর একাধিক বিধিনিষেধও চাপাতে পারে এই দেশগুলি। বিশ্লেষক মহলের অনেকেরই দাবি, ট্রেড বাজুকা প্রয়োগ করা হলে আমেরিকার পণ্য ব্যবহার হ্রাস, আমেরিকায় পণ্য রপ্তানি কমিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশের সাথে লাভজনক চুক্তি বাতিলের মতো একাধিক পদক্ষেপ নিতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলি। সেক্ষেত্রে বলাই যায়, ইউরোপের দেশগুলির কঠোর পদক্ষেপে বেশ ধাক্কা খাবে আমেরিকা!
অবশ্যই পড়ুন: নিউজিল্যান্ডের কাছে হারতেই শাস্তি পেলেন শুভমন গিল সহ ভারতের তারকা অলরাউন্ডার
প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের 10 শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘটনার পর ইউরোপীয় পার্লামেন্টের রক্ষণশীল গোষ্ঠীর বিশেষ নেতা ম্যানফেড ওয়েবার খুব পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, “আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তিকে স্বাগত জানাই এবং সমর্থন করি। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে হুমকি দিচ্ছেন তাতে এই চুক্তিতে অনুমোদন দেওয়া কিছুতেই সম্ভব নয়।” বলে রাখি, ট্রাম্প ইউরোপের যে 8 দেশের উপর শুল্ক চাপালেন সেই তালিকায় রয়েছে ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নরওয়ে, জার্মানি, যুক্তরাজ্য বা ব্রিটেন, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস এবং ফিনল্যান্ড।