সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সংখ্যা সামান্য কমলেও আমেরিকায় অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা এখনও পর্যন্ত বন্ধ হয়নি। হ্যাঁ, তথাকথিত ডাঙ্কি রুট ব্যবহার করে প্রতিদিন গড়ে ৬৫ জন ভারতীয় নাগরিক এবার মার্কিন অভিবাসন দফতরের রাতে ধরা পড়ছে (Indian in America)। এমনই তথ্য উঠে আসলো ইউএস বর্ডার এন্ড কাস্টমস ডিপার্টমেন্টের সাম্প্রতিক রিপোর্টে। সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ২৩,৮৩০ জন ভারতীয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই অবৈধভাবে আমেরিকায় প্রবেশের চেষ্টা করছিল।
আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে সংখ্যা
বলাই বাহুল্য, মার্কিন আধিকারিকদের দাবি অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় অবৈধ অনুপ্রবেশের সংখ্যা কমেছে ঠিকই। কিন্তু তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ২০২৪ সালে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্টের আমলে এই সংখ্যা অনেকটাই বেশি ছিল। হ্যাঁ, ৮৫,১১৯ জন ভারতীয় তখন ধরা পড়েছিল। তবে এবার অনেকটাই কমেছে।
এদিকে ২০২৫ সালের আগে একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, ধরা পড়া সমস্ত ভারতীয়রা একাই ভ্রমণ করেছিল। পরিবার নিয়ে যাওয়ার কোনও ঘটনা সামনে আসেনি। আর একটি এর ঠিক এক বছর আগে অর্থাৎ ২০২৪ সালে প্রায় ২০,০০০ ভারতীয় স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন বা সন্তানদের সঙ্গে ধরা পড়েছিল। তাই এই প্রবণতার বদল যে প্রশাসনের নজর কেড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বদলাচ্ছে রুট
এদিকে সবথেকে বড় পরিবর্তন দেখা গিয়েছে যাত্রা পথে। কারণ, আগে যেখানে কানাডা ও মেক্সিকোর সীমান্ত ছিল মূল রাস্তা। তবে এখন তুরস্ক-দুবাই রুট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আধিকারিকদের মতে, অনেকেই এই রুটে ট্যুরিস্ট ভিসায় আমেরিকায় ঢুকে পড়ছে। আর সেখানে ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও থেকে যাচ্ছে। রিপোর্ট বলছে, কানাডা সীমান্তে ধরা পড়েছে ৬৯৬৮ জন, মেক্সিকো সীমান্তে ধরা পড়েছে ১৫৪৩ জন এবং আমেরিকার বিভিন্ন শহরে ধরা পড়েছে ১৫,৩১৯ জন।
২০০৯ সালের পর সর্বাধিক ডিপোর্টেশন
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে আমেরিকার থেকে ৩২৫৪ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে বল খবর, যা ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ। এমনকি গত ১৬ বছরে মোট ১৮৮২ জন ভারতীয়কে ডিপোর্ট করেছিল আমেরিকা।
আরও পড়ুন: ভারতের সবথেকে ঋণগ্রস্ত রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ, মাথায় কত বোঝা? প্রকাশ্যে RBI-র রিপোর্ট
ডাঙ্কি রুটে তিনটি ভয়ঙ্কর পথ
বলে রাখি, অবৈধ অভিবাসীরা সাধারণত তিনটি বিপজ্জনক পথ দিয়েই এখন আমেরিকায় ঢোকার চেষ্টা করছে। আর সেগুলি হল—
কানাডা থেকে হিমশীতল পথ: ট্যুরিস্ট ভিসায় কানাডা থেকে টরেন্টো থেকে ম্যানিটোবা যাওয়া যাচ্ছে এই রাস্তায়। সেখান থেকে -৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় হাঁটা পথে আমেরিকা সীমান্ত পেরনো যায়।
দক্ষিণ আমেরিকার জঙ্গল মরুভূমি রুট: ঘন জঙ্গল, নদী, পাহাড় আর মরুভূমি পেরিয়ে এই যাত্রা। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ডিপোর্ট হওয়া হরজিন্দর সিং জানিয়েছেন, পানামা জঙ্গল পাড় হতে তাদের ১০ দিন সময় লেগেছিল, তাও খাবার এবং জল ছাড়া।
নদী এবং নৌপথ: পানামার জঙ্গল পেরিয়ে কলম্বিয়া থেকে ১৫০ কিলোমিটার নদী পথে যাত্রা করতে হয়। তারপর নিকারাগুয়া, মেক্সিকো এবং গুয়াতেমালার বিপজ্জনক নৌযাত্রা করে আমেরিকা পৌছনো যায়।