ডিআইজি থেকে সোজা NIA-র আইজি, কালিয়াচকের তদন্তে আসা কে এই IPS সোনিয়া সিং?

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্রমেই ভোটের হাওয়া বেশ গরম হয়ে উঠেছে, কারণ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) দিন এগিয়ে আসছে। চারিদিকে চলেছে নেতা মন্ত্রীদের ভোটের প্রচার। আর এই অবস্থায় কালিয়াচককাণ্ডে (Kaliachak Investigation) তদন্তের গতি বাড়াতে সরাসরি ময়দানে নামল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা NIA। জানা গিয়েছে আজ, শুক্রবার এই ঘটনার তদারকি করতে কলকাতায় পা রাখলেন NIA-এর IG সোনিয়া সিং।

তদন্তের দায়িত্বভার পড়ল NIA-র উপর

গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, মালদহের কালিয়াচককাণ্ডের ঘটনা নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের প্রতি ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। এবং মালদহের এই ঘটনায় শীর্ষ আদালত এও জানায় যে, প্রয়োজনে ঘটনার তদন্ত CBI কিংবা NIA-কে দিয়ে করানো হবে। এরপরেই জরুরি বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন। তখনই এনআইএ-কে দিয়ে তদন্ত করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সূত্রেই আজ শুক্রবার, ডিআইজি-র নেতৃত্বে প্রায় দুই ডজনের একটি বিশেষ দল ইতিমধ্যেই মালদার মোথাবাড়ির দিকে রওনা দিয়েছে ঘটনাপ্রবাহের খুঁটিনাটি জানার জন্য। শুধু তাই নয়, সকালে পরিস্থিতি তদারকি করতে কলকাতায় এসে পৌঁছন NIA-র IG সোনিয়া সিং। কিন্তু জানেন কি কে এই দুঁদে আইপিএস অফিসার?

কে এই সোনিয়া সিং?

রিপোর্ট মোতাবেক জানা গিয়েছে, ২০০৩ সালের নাগাল্যান্ড আইপিএস ব্যাচের সদস্য হলেন সোনিয়া সিং। ২০২৪ সালের শেষদিকে NIA-তে যোগ দিয়েছিলেন সোনিয়া সিং। তার আগে উত্তর-পূর্ব ভারতে দীর্ঘদিন দায়িত্ব সামলেছেন। নাগাল্যান্ডে ডিআইজি ও পরে আইজি পদে থেকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়াও সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যা এবং জটিল প্রশাসনিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁর দক্ষতা হার মানাবে সকলকে। তাই সকলের বিশ্বাস তাঁর এই প্রশাসনিক কাজে সীমাহীন ভূমিকা, সোনিয়া সিং-কে NIA-র মতো সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়ে আসা হয়েছে। এইমুহুর্তে তদন্তে কোনও ফাঁক না রেখে তিনি কলকাতার রাজারহাটে এনআইএ-র আঞ্চলিক দফতরে অভিযুক্তদের জেরা তদারকিও করেছেন।

বাগডোগরা বিমানবন্দরে বড় সাফল্য

গতকাল থেকেই কালিয়াচককাণ্ড অভিযুক্তদের খোঁজে পুলিশের চিরুনি তল্লাশি চলছিল। অবশেষে আজ, শুক্রবার সকালে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে CID এবং বাগডোগরা থানার পুলিশ যৌথ অভিযান চালায় বাগডোগরা বিমানবন্দরে। সেখান থেকে মোফাক্কেরুল ইসলামকে পাকড়াও করা হয়। পুলিশের দাবি, এই ঘটনার নেপথ্যে তিনিই মূলচক্রী। তাই ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে মালদায় নিয়ে যাওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট জানিয়েছে, এসআইআরের কাজে নিযুক্ত বিচারকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে হবে। এছাড়াও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে তাঁদের বাসভবনেও।

আরও পড়ুন: “ধরেছে আমাদের CID” মোথাবাড়িকাণ্ডে মোফাক্কারুলের গ্রেফতারি নিয়ে বিস্ফোরক মমতা

প্রসঙ্গত, কালিয়াচকের ঘটনায় প্রথম থেকেই কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। একদিকে তদন্তের অগ্রগতির জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থা NIA-র আইজি-র কলকাতায় আগমন এবং অন্যদিকে CID- র হাতে অন্যতম প্রধান অভিযুক্তের গ্রেপ্তারি— সব মিলিয়ে তদন্ত এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। অর্থাৎ রাজ্য ও কেন্দ্র, দুই পক্ষই চাইছে দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে। তাই ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনা সত্যিই নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলে। এখন দেখার পালা আর কী কী অন্তর্নিহিত তথ্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

Leave a Comment