বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: হিন্দু, বৌদ্ধ এবং শিখ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনও ধর্মালম্বীরা তপশিলি (Scheduled Castes and Scheduled Tribes) তকমার জন্য আবেদন করতে পারবেন না। মঙ্গলবার এক মামলার শুনানি চলাকালীন এমনটাই জানিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court of India)। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পি কে মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়া একেবারে খোলাখুলি জানান, যদি কেউ হিন্দু, বৌদ্ধ এবং শিখ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনও ধর্মে ধর্মান্তরিত হন এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতি আইনের অধীনে সুরক্ষা চান বা তকমা চান তবে তিনি সেটা পাবেন না।
কোন মামলার শুনানিতে এমন মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের?
পিটিআই সূত্রে খবর, আনন্দ নামক এক ক্রিস্টান ধর্মপ্রচারক অভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি খ্রিস্ট ধর্মালম্বী হওয়ার পর থেকে বারবার নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন। বহুবার খুনের হুমকিও পেয়েছেন তিনি। মূলত সে কারণেই বারবার নির্যাতিত হয়ে শেষ পর্যন্ত তপশিলি জাতি এবং উপজাতি আইনে আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি।
এদিকে যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হচ্ছিল সেই অভিযুক্তের বক্তব্য ছিল, আনন্দ একজন খ্রিস্টান। তিনি খ্রিস্টান ধর্মে রয়েছেন। তাই তপশিলি জাতি ও উপজাতি আইনে তিনি মামলা করতে পারেন না। এরপরই তদন্ত চলাকালীন চার্জশিট পেশ করা হয় আনন্দ নামক ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পরে অন্ধপ্রদেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া অভিযোগ খারিজ করার আবেদন জানান আনন্দ। এদিকে হাইকোর্ট রায় দেয় অভিযুক্তের পক্ষে। যার ফলে পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট এর দরজায় পৌঁছন অভিযোগকারী।
অবশ্যই পড়ুন: ভোটে নেওয়া বাস-মিনি বাস, অ্যাপ-ক্যাবের ভাড়া বাড়াল রাজ্য সরকার, কত হল?
মঙ্গলবার আনন্দের দায়ের হওয়া মামলার শুনানি চলাকালীন দেশের শীর্ষ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ একেবারে খোলাখুলি জানিয়ে দেয়, “হিন্দু, শিখ এবং বৌদ্ধ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনও ধর্মালম্বী ব্যক্তি তপশিলি জাতি বা উপজাতিভুক্ত নন। ফলে অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হাওয়ায় তপশিলি জাতি ও উপজাতি আইনে মামলা দায়ের করা যায় না।” এক কথায়, অন্য ধর্মালম্বী ব্যক্তি এই আইনে মামলা দায়ের করা মানে তপশিলি জাতি ও উপজাতির মর্যাদা ক্ষুন্ন করা।