সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতকে জ্বালানি সংকটের (Fuel Crisis) হাত থেকে বাঁচানোর জন্য এবং আমদানির নির্ভরতা কমানোর জন্য এবার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা অয়েল এন্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশন বা ONGC (ONGC News Project)। জানা যাচ্ছে, গভীর সমুদ্রের খনিজ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আনুমানিক ১৮ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার যা ভারতীয় মুদ্রায় ১.৬৫ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে সংস্থা। আর এটি তাদের ইতিহাসের সবথেকে বড় অনুসন্ধান কর্মসূচি হতে চলেছে।
ONGC এর মেগা প্রকল্প
উল্লেখ্য, ভারতের বর্তমান জ্বালানি চাহিদা মেটানোর জন্য বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে তেল এবং গ্যাস আমদানি করতে হয়। আর ONGC এর এই বিনিয়োগের মূল লক্ষ্য হল বিদেশের উপর নির্ভরতা কমানো। বিশেষ করে বর্তমানে ভারত প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের ৮৮ শতাংশ, এলপিজির ৬০ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ৫০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। আর দেশের সমুদ্র বক্ষে লুকিয়ে থাকা এই তেলের ভাণ্ডার খুঁজে বের করে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোই এখন ONGC এর মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মাঝে ভারতের নিজস্ব জ্বালানি ভাণ্ডারকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে তারা।
এদিকে সরকারি কর্মসূচি সমুদ্র মন্থনের আওতায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে বলে খবর। আর ONGC গভীর সমুদ্রে ড্রিলিং করার জন্য অত্যাধুনিক ড্রিলশিপ এবং সেমি-সাবমার্সিবল রিগ ভাড়া করার প্রক্রিয়াও ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছে। এদিকে রিগগুলি আগামী ৮০ দিনের মধ্যেই মোতায়েন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এই ড্রিলিং রিগগুলি পাঁচ বছরের চুক্তিতে কাজ করবে। বিশেষ করে আন্দামান-নিকোবর এবং পূর্ব উপসাগরীয় অঞ্চলের গভীর সমুদ্রের নিচে এই বিশাল তেলের ভাণ্ডার রয়েছে বলে মত প্রকাশ বিশেষজ্ঞদের।
না বললেই নয়, এই মেগা প্রকল্পে বিশ্বের বড় বড় শক্তি সংস্থাগুলি ONGC এর সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তালিকায় রয়েছে শেভরন, এক্সন মবিল, টোটাল এনার্জিস এবং শেলের মতো সব বিশ্ব বিখ্যাত সংস্থা। আর ইতিমধ্যে বিপি পিএলসি এর সঙ্গে অংশীদারিত্বে কাজ করেছে ONGC। প্রসঙ্গত, গত ২৫ মার্চ ২০২৬ বাজার বন্ধ হওয়ার সময় ONGC এর শেয়ারের দামও ০.৬২% বৃদ্ধি পেয়ে ২৬৯.৭০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আর সংস্থার বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.৪০ লক্ষ কোটি টাকা।