বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতার জের হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) পুরোপুরি নিজের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছে ইরান। যার ফলে তেহরানের অনুমতি ছাড়া পেরোনো যাচ্ছে না সেই জলপথ। একেবারে অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়া হরমুজ দিয়ে আমদানি এবং রপ্তানি বাণিজ্য করতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে দেশগুলির। ঠিক সেই সময় চাপের মুখে আশা যোগাচ্ছে নতুন এক রাস্তা। শোনা যাচ্ছে ইতিমধ্যেই সেই রাস্তা দিয়ে হরমুজে প্রবেশ করেছে একাধিক জাহাজ। সেই তালিকায় রয়েছে ভারতের পতাকাবাহী জাহাজও।
বিকল্প পথ দিয়ে হরমুজ এ প্রবেশ করছে একের পর এক জাহাজ
NDTV র রিপোর্ট বলছে, বিগত দিনগুলিতে চারটি বড় ভেসেল যেগুলি তেল, LNG সহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্য নিয়ে ফিরছিল তারা ইরানের জলপথ এড়িয়ে বিকল্প পথ দিয়ে হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ করেছে। বর্তমানে ওমানের সামুদ্রিক সীমার মধ্যেই রয়েছে জাহাজগুলি। জানা যাচ্ছে, ক্রুড অয়েল বোঝাই দুই জাহাজ হাব্রুট এবং ডালকুট অন্যদিকে পানামার LNG ক্যারিয়ার ওমানের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। পরবর্তীতে মুসনদাম উপকূলের কাছে গিয়ে সিগনাল ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে জাহাজগুলি। শেষবারের মতো এই জাহাজগুলিকে মাসকট উপকূল থেকে 350 কিলোমিটার দূরে দেখা যায়।
দেখা গিয়েছে ভারতীয় জাহাজকেও
রিপোর্ট অনুযায়ী, ক্রুড ওয়েল বহনকারী দুই জাহাজ প্রায় 20 লাখ ব্যারেল ক্রুড অয়েল সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তুলেছিল। এই দুই জাহাজ ও অন্য একটি জাহাজ মিলিয়ে মোট তিনটি জাহাজ খুব সম্ভবত ইরানের অনুমতি ছাড়াই ওমানের বিকল্প পথ ধরে হরমুজ প্রণালীতে ঢোকে। পরবর্তীতে দেখা যায় ভারতের পতাকা লাগানো কার্গো ক্যারিয়ার MSV কিউবা AMNV 2183 জাহাজও ওই রুট দিয়ে হরমুজে প্রবেশ করেছিল। সেক্ষেত্রে বলাই যায়, ভারতের জাহাজকেও হরমুজ পার করতে ইরানের অনুমতি নিতে হল না। জানা যায়, শেষবারের মতো, 31 মার্চ ওই জাহাজ দুবাই থেকে রওনা দেয়। এই মুহূর্তে জাহাজটি ওমানের দিব্বা বন্দর থেকে 40 কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে চলাচল করছে।
অবশ্যই পড়ুন: ৩৫০০ কিমি দূরে ছুঁড়বে মিসাইল, ভারতীয় নৌসেনা পেল পরমাণু অস্ত্র বহনকারী ডুবোজাহাজ INS অরিদমন
উল্লেখ্য, এর আগেই আমেরিকা, ইজরায়েল এবং তাদের মিত্র দেশগুলিকে বাদ দিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলিকে হরমুজ দিয়ে তৈল পণ্য সহ অন্যান্য জ্বালানি নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল ইরান। তবে এর জন্য প্রতিবার তেহরানের কাছ থেকে অনুমতি প্রয়োজন হবে সেটাও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়।