প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে দিন দিন গ্যাসের সঙ্কট বেড়েই চলেছে। মিলছে না গ্যাস, বাজারে তাই গ্রাহকদের হাহাকার অবস্থা। এই কারণে একাধিক শহরে হোটেল-রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গ্যাসের সংকটের (LPG Cylinder Crisis) ছায়া পড়েছে হাসপাতাল, স্কুল কলেজ হোস্টেল ক্যান্টিনে। আর ঠিক এই পরিস্থিতিতে গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার জ্বালানি নিয়ে বড় ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার (Central Government Of India)। রান্নার গ্যাসের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (LPG Gas Production) প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে আশ্বাস দিল কেন্দ্র।
এলপিজি উৎপাদন ৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে
কেন্দ্রীয় তেল মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছে যে, দেশজুড়ে গৃহস্থালির জন্য এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। রিফাইনারিগুলিতে উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে যাতে বাজারে গ্যাসের ঘাটতি না হয়। রিপোর্ট মোতাবেক ৫ মার্চের পর থেকে দেশে এলপিজি উৎপাদন ৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এলপিজি বুকিংয়ের ব্যবধান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। তিনি জানিয়েছেন, শহরাঞ্চলে গ্যাস বুকিংয়ের ন্যূনতম ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় এই ব্যবধান ২৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৪৫ দিন করা হয়েছে। আর তাতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হয়েছে।
LPG Supply Measures
➡️Government steps to maintain demand-supply balance
Key Points👇
💠Refineries directed to maximise LPG production
💠LPG production has increased by 30%
💠Over 25,000 LPG distributors are operating across the country
💠More than 50 lakh LPG cylinders are… pic.twitter.com/ljeYxulw5x
— PIB India (@PIB_India) March 13, 2026
কী বলছেন যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা?
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, “পরিবার, হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য এলপিজি সরবরাহকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও কেন্দ্র, রাজ্য সরকারগুলিকে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারও সরবরাহ করছে, যাতে রাজ্য সরকার যেখানে যেমন প্রয়োজন ঠিক ততটাই অগ্রাধিকার অনুসারে বিতরণ করতে পারে। পাশাপাশি সারা দেশে পেট্রোল বা ডিজেলের কোনও ঘাটতি নেই। প্রায় ১,০০,০০০ খুচরো জ্বালানি বিক্রেতা জানিয়েছেন যে গ্যাসের কোনও ঘাটতি নেই তাদের আউটলেটে। পেট্রোল পাম্পগুলিও স্বাভাবিকভাবে চলছে এবং পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে।”
পাইপের মাধ্যমেও চলছে গ্যাস সরবরাহ
ভারতে প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ পরিবার পিএনজি কানেক্শন ব্যবহার করেন। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কম্প্রেসড প্রাকৃতিক গ্যাসও স্থিতিশীল রয়েছে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ সরবরাহও করা হচ্ছে। আরও ৬০ লক্ষ বাড়ি সহজেই পিএনজি সংযোগ পেতে পারেন। ফলস্বরূপ এলপিজির চাহিদার উপর চাপ কমতে পারে। অন্যদিকে যানবাহনে ব্যবহৃত সিএনজি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও অন্য শিল্পক্ষেত্রগুলি যেমন উৎপাদন শিল্প ও চা শিল্প, এদের গড় চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ গ্যাস দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: KKR-এ হর্ষিত রানার বদলি হচ্ছেন MI-র এই বোলার! চেনেন নাকি?
প্রসঙ্গত, এলপিজি ঘাটতির অভিযোগ তুলে বিরোধী সাংসদেরা সংসদ চত্বরে বিক্ষোভও দেখিয়েছেন। তবে কেন্দ্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জ্বালানি সংকটের জেরে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজপথে মিছিল করতে চলেছেন। আগামী সোমবার, ১৬ মার্চ, বিকেল ৪টের সময় মিছিল শুরু হবে কলেজ স্কোয়ার থেকে যা শেষ হবে ডরিনা ক্রসিংয়ে। মিছিলে উপস্থিত থাকবেন তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীরা।