প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের সাঁইথিয়ায় (Sainthia) নাবালিকাকে ধর্ষণ (Rape Case) করে খুনের অভিযোগ উঠল। জানা গিয়েছে সেখানকার এক বাড়িতে বছর চোদ্দোর ওই নাবালিকা পরিচারিকার কাজ করত। খুনের পর নাকি পরিচারিকার দেহ পাথরের গোডাউনে রেখে দেওয়া হয়৷ গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার বিষয়টি জানাজানি হতেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায় ৷ নির্যাতিতার পরিজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা সাঁইথিয়া থানার সামনে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান ৷
ঠিক কী ঘটেছিল?
রিপোর্ট মোতাবেক, বীরভূমের সাঁইথিয়া পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মার্বেল পাথর ব্যবসায়ী পঙ্কজ পারেকের বাড়িতে কাজ করত এক নাবালিকা৷ তাঁর বাড়ি সাঁইথিয়ারই বাগডোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের দেরিয়াপুর অঞ্চলে। সেখান থেকেই সে কাজে আসত কিন্তু দোলের পরের দিন নাবালিকা আর বাড়ি ফেরেনি বলে অভিযোগ। এরপর নাবালিকার খোঁজ করতেই মার্বেল পাথরের গোডাউন থেকে উদ্ধার হয় তাঁর দেহ।
এদিন, বিষয়টি জানাজানি হতেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ ওঠে, দোলের পরের দিন নাবালিকাকে ধর্ষণ করে নাকি খুন করা হয়েছে। আর এই নিয়ে উত্তপ্ত সাঁইথিয়া। পরিজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা সাঁইথিয়া রাস্তায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে এবং খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে সাঁইথিয়া থানার পুলিশ।
অভিযোগ অস্বীকার গৃহকর্তার
স্থানীয়দের অভিযোগ, ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে ওই নাবালিকাকে। কিন্তু অভিযোগ অস্বীকার করে বাড়ির গৃহকর্তা। তিনি বলেন, “আমাদের এখানে যদি ধর্ষণ করা হত, আমরা কি হাসপাতালে নিয়ে যেতাম? অ্যাম্বুল্যান্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। গত ২ বছর আমাদের বাড়িতে কাজ করত। সে বিষ খেয়েছিল। কেন খেয়েছিল, তা বাড়ির লোককে জিজ্ঞাসা করুন।” কিন্তু এই দাবি মানছে না কেউই। বিক্ষোভকারীদের দাবি, “ নাবালিকার মৃত্যুর একদিন পর বাড়িতে জানিয়েছে। এমনকি মৃতদেহ এনে ঘণ্টা তিনেক একটা গোডাউনে রাখে। কেন এটা হবে? ওই বাড়িতে আর একজন কিশোরী কাজ করে। কিন্তু, তাকে ওরা কথা বলতে দিচ্ছে না।”
আরও পড়ুন: সরকারের চাপে না অন্য কারণে পদত্যাগ? এবার মুখ খুললেন প্রাক্তন রাজ্যপাল আনন্দ বোস
নাবালিকার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় যুক্ত সন্দেহে শ্রেয়ান পারেক নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। স্থানীয়রা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “ আমরা এই ঘটনার শেষ দেখে ছাড়ব। পুলিশ যদি যথোপযুক্ত ব্যবস্থা না নেয় এবং অভিযুক্তকে শাস্তি না দেয় তাহলে আমরা পুনরায় পথ অবরোধ করব।”