প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নতুন বছরেই সরকারী কর্মীদের জন্য বড় উপহার নিয়ে এল পশ্চিমবঙ্গ সরকার! লিভ ট্রাভেল কনসেশন বা LTC নিয়ে (WB LTC Rule) বড় পদক্ষেপ নিল সরকার। জানা গিয়েছে এতদিন আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ভ্রমণের ক্ষেত্রে LTC সংক্রান্ত যে জটিলতা ছিল, তা এবার শেষ হবে। রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তরের এক নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে সরকারি কর্মচারীরা আন্দামান ভ্রমণের জন্য বিমানেও যাতায়াত করতে পারবেন, আর সেই পুরো ভাড়াই দেবে সরকার।
জাহাজে ভ্রমণে বিপুল সমস্যা
এতদিন ২০০৫ সালের নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা প্রতি ১০ বছরের ব্লকে একবার শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া পরিচালিত জাহাজে করে আন্দামান যাওয়ার জন্য এলটিসি পেতেন। কিন্তু জাহাজে যাতায়াতে অনেকের নানা সমস্যা থাকে। অনিয়মিত শিপিং পরিষেবার কারণে শ্রী বিজয় পুরমে জাহাজে যাতায়াত করা অসুবিধাজনক হয়ে পড়েছে। ফলে অনেকেই কম সময় যাতায়াতের জন্য বিমানকেই প্রায়োরিটি দিচ্ছে। এদিকে বিমানের ভাড়া হিসেবে যে রিইম্বার্সমেন্ট সরকারি কর্মীরা পান, তা জাহাজের ভাড়ার সমান টাকা। ফলে কী ভাড়া নির্ধারণ করা হবে, তা নিয়ে প্রশাসনিক শিবিরে অসুবিধা দেখা দেয়। এবার সেই সমস্যা দূর করতে নয়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার।
আরও পড়ুনঃ ১৫ আগস্ট ২০২৭-এ মিলবে টিকিট! ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেনের উদ্বোধনের দিনক্ষণ, রুট ঘোষণা রেলমন্ত্রীর
নয়া বিজ্ঞপ্তি অর্থ দপ্তরের
রিপোর্ট মোতাবেক গত ৩০ ডিসেম্বর রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তর ‘লিভ ট্রাভেল কনশেসন’ বা ‘এলটিসি’ নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে এবার থেকে সরকারি কর্মচারীরা ফ্লাইটে আন্দামান ভ্রমণে গেলে, পুরো ভাড়াই ফেরত পাবেন। শুধু তাই নয় ২০০৫ সালের নিয়মে কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী স্পষ্ট বলা হয়েছে, যে সমস্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারী আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে LTC সুবিধা নিয়ে ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক, তাঁরা এখন থেকে ইকোনমি ক্লাসে বিমানে যাতায়াত করতে পারবেন। তবে এসব সুবিধার জন্য বেশ কিছু নির্দিষ্ট শর্ত মানতে হবে।
আরও পড়ুন: হাড় কাঁপানো শীত অতীত, দক্ষিণবঙ্গে এবার বাড়বে তাপমাত্রা, আবহাওয়ার খবর
মানতে হবে একাধিক শর্ত
অর্থ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিমানে ভ্রমণের ক্ষেত্রে যে শর্তগুলি অবশ্যই পূরণ করতে হবে সেগুলি হল কর্মচারীকে তাঁর হেডকোয়ার্টার্সের নিকটবর্তী কোনো বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করতে হবে। অবশ্যই ভারতীয় বেসরকারি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে যাত্রা করতে হবে, এবং তাদের যেন শ্রী বিজয় পুরমে সরাসরি ফ্লাইট থাকে। বিমানের টিকিট সরাসরি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের বুকিং কাউন্টার থেকে বুক করতে হবে। কোনো এজেন্টের মাধ্যমে নয়। এবং রিইম্বার্সমেন্ট হিসেবে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা টিকিটে উল্লিখিত প্রকৃত বিমান ভাড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। কিন্তু নতুন নিয়মের জন্য জাহাজে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। কর্মচারীরা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো একটি মাধ্যম বেছে নিতে পারবেন।