সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বর্তমানে গভীর আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইরান। ইতিমধ্যেই ইরানি মুদ্রা রিয়ালের (Iranian Rial) মান একেবারে শূন্যে নেমে এসেছে। তবে এই আবহে সামনে এল আরও খারাপ খবর। কারণ, এবার নাকি ২৭টি দেশে আর ইরানি মুদ্রা গ্রহণ করা হবে না। হ্যাঁ, বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশগুলোতেই এবার আর রিয়াল বিনিময় করা যাচ্ছে না। আর দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, বাসিন্দারা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পর্যন্ত কিনতে পারছে না। যার কারণে শাসন ব্যবস্থাকেই কাঠগড়ায় তুলেছে আমজনতা।
কীভাবে এই ঘটনার সূত্রপাত?
আসলে গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হয়েছিল এই বিক্ষোভ। প্রাথমিকভাবে ব্যবসায়ীরা ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক টানাপোড়েন, মুদ্রাস্ফীতি এবং রিয়ালের মূল্য হ্রাসের কারণে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। সবথেকে বড় ব্যাপার, ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে রিয়ালের মূল্য ০.০০০৯১ পয়সায় নেমে এসেছিল। আর মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়াল তো ০.০০০০০১০ সেন্টে নেমে এসেছে। অন্যদিকে ইউরোর বিপরীতে বর্তমানে তা শূন্যে দাঁড়িয়েছে। সেই কারণেই ২৭টি ইউরোপীয় দেশে আর কোনও ভাবেই ইরানি রিয়াল গ্রহণ করা হবে না।
আরও পড়ুনঃ সোনা, রুপোর দামে বড় পরিবর্তন! কমল না বাড়ল? আজকের রেট
আসলে এই ঘটনা অর্থনৈতিক বিষয়কে কেন্দ্র করেই। কিন্তু তা রাজনৈতিক আন্দোলনে পরিণত হয়। বিক্ষোভকারীরা মূলত ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে দেশটির শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। আন্দোলন ঠেকাতে শনিবার গভীর রাতেই তেহরানে কড়া নিরাপত্তা এবং ইন্টারনেট বন্ধ থাকে। আর হাজার হাজার মানুষ সরকার বিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। এমনকি দেশের শীর্ষ নেতা আয়তুল্লা খামেনির ছবি পর্যন্ত পুড়িয়ে দেওয়া হয়। যার যেরে অশান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে এবং রিয়ালের মান দিনের পর দিন তলানিতে ঠেকছে।
আরও পড়ুনঃ ATM থেকে টাকা তোলা, জমার জন্য গুনতে হবে বেশি টাকা, গ্রাহকদের খরচ বাড়াল SBI
প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারছে না স্থানীয় মানুষ
প্রসঙ্গত, এই বিক্ষোভ টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলছে এবং নিরাপত্তাবাহিনীর সাথেও বাঁধছে সংঘর্ষ। মানবাধিকার সংস্থাগুলির দাবি, এখনও পর্যন্ত ৫৪৪ জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগে বিক্ষোভকারী। কিন্তু দেশটিতে তথ্যপ্রবাহের উপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যার কারণে এই পরিসংখ্যান এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট ভাবে জানা যাচ্ছে না। তবে সবথেকে বড় ব্যাপার, স্থানীয় মানুষজন অর্থনীতির এই পরিস্থিতিতে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রটুকুও কিনতে পারছে না। ফলে এক কথায় দেশের অবস্থা যে টলমলে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।