প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: SIR শুনানি নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। সামান্য বানান ভুল থেকে শুরু করে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকা সকলেই SIR শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে দাবি করছে যার ফলে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ ছড়িয়েছে। এমতাবস্থায় আরেক BLO পেলেন SIR নোটিস। নির্দিষ্ট সময়ের আগে ‘SIR’-এর কাজ শেষ করায় সেরা বিএলও-র পুরস্কার পেলেও এবার সেই বিএলওকেই শুনানির নোটিস (SIR Hearing Notice) ধরানো হল। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুরে।
সেরা বিএলও-র স্বীকৃতি পেয়েও নোটিস
রিপোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারী ব্লকের ২০৮ নম্বর পার্টের বিএলও হিসেবে কাজ করে আসছেন বুনিয়াদপুর পুরসভা এলাকার চার নম্বর ওয়ার্ডের ব্লক অফিসপাড়ার বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন। তিনি পেশায় সমসপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। জানা গিয়েছে, ২০১২ সাল থেকে তিনি BLO হিসেবে কাজ করছেন। এই কাজে তাঁর যথেষ্ট অভিজ্ঞতাও ছিল। সেই কারণে ২০২২ সালে যেমন তিনি সেরা বিএলও-র স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। চলতি এসআইআর প্রক্রিয়াতেও নিজের কাজ সঠিকভাবে সময়ের আগে শেষ করেছিলেন তিনি। সেজন্য সেরা বিএলও-র পুরস্কারও সাজ্জাদ পেয়েছেন। এমতাবস্থায় এবার নিজের নামেই পেলেন SIR এর শুনানির নোটিস।
কী কারণে এই নোটিস?
সেরা বিএলও-র পুরস্কার পাওয়ার পরেই গত শনিবার চার নম্বর ওয়ার্ডের ব্লক অফিসপাড়ার বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেনের কাছে শুনানির নোটিস এসেছে। জানা গিয়েছে তাঁর আগামী ২৮ জানুয়ারি শুনানির ডাক পড়েছে বংশীহারি হাইস্কুলে। কিন্তু কী কারণে তাঁর ডাক পড়ল এই প্রশ্ন উঠতেই সাজ্জাদ হোসেন জানিয়েছেন, তাঁরা ছয় ভাই-বোন। যাবতীয় তথ্যও দেওয়া হয়েছে। ২০০২ সালের তালিকায় নাম ঠিক ছিল। কিন্তু কমিশনের অ্যাপে বাবার নাম ভুল এসেছে। তাঁর অভিযোগ, এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের সময়েই এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এই ধরনের ভুল নির্বাচন কমিশনের যাচাই করা উচিত ছিল।
আরও পড়ুন: শর্ট সার্কিট না গাফিলতি? ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড আনন্দপুরের মোমো কারখানায়, নিখোঁজ ৩ কর্মী
রাজনৈতিক তর্ক বিতর্ক
কমিশনের এই ভুলের ঘটনা জানাজানি হতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। রাজনৈতিক বিতর্ক ছড়িয়েছে বেশ। একের পর এক BLO-কে হয়রানির অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য সুভাষ চাকি এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘যে সরকারি কর্মী নির্দিষ্ট সময়ের আগে কাজ শেষ করায় সেরা বিএলও-র পুরস্কার পেলেন, তাকেই এ বার শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। এটা কখনও সম্ভব। একজন দক্ষ বিএলও কী ভাবে নিজের তথ্য ভুল দেবেন।” অন্যদিকে বিজেপির জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী বলেন, “কারও তথ্যে ভুলভ্রান্তি থাকলে তাঁকে শুনানিতে ডাকা হতেই পারে। এটা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ভাবে হোক, সেটা তৃণমূল চায় না।”