প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে ততোই বাংলায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে শুরু হচ্ছে নানা বিতর্ক এবং চর্চা। তার উপর ভরতপুরের বিধায়ক তথা তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া হুমায়ুন কবীর নতুন দল গঠন করে চমক দিয়েছেন সকলকে। সিপিএম, মিম, আইএসএফের সঙ্গে জোট নিয়ে বার্তাও দিয়েছেন তিনি। আর এই আবহে ভোটের মুখে চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরলেন হুমায়ুন (Humayun Kabir)। গোপনে নাকি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তৃণমূল। শুধু তাই নয় ফিরহাদ হাকিমকেও হুঁশিয়ারি বার্তা দিলেন হুমায়ুন।
আসন রফা করতে চাইছে তৃণমূল?
মুর্শিদাবাদের বুকে বাবরি মসজিদ নির্মাণ নিয়ে শাসকদলের সঙ্গে ব্যাপক শোরগোল এবং মনোমালিন্য হওয়াতেই দল থেকে ফিরহাদ হাকিম সাসপেন্ড করে দিয়েছিলেন। যদিও নানা রাজনৈতিক মতামত নিয়ে আগে থেকেই শাসকদলের সঙ্গে হুমায়ুনের মন কষাকষি ছিল, এমতাবস্থায় নতুন করে দিল গঠন করলেন হুমায়ুন, নাম রাখলেন জনতা উন্নয়ন পার্টি। একের পর এক নতুন নতুন গুটি সাজিয়ে চলেছেন তিনি। কারণ তাঁর টার্গেট ২০২৬ এর নির্বাচনে অন্তত ৯০ টি আসনে জয়লাভ করা। তবে এবার শোনা যাচ্ছে অন্য কথা, তাঁর দলের সঙ্গে নাকি মুর্শিদাবাদে আসন রফা করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস?
কী বলছেন হুমায়ুন কবীর?
রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ রবিবার, মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, সেখানেই উপস্থিত ছিলেন হুমায়ুন কবির। আর সেই অনুষ্ঠানে বক্তৃতার মাধ্যমে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি করলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। তিনি দাবি করেন, “আমাকে ভরতপুরে তৃণমূল টিকিট দেবে কি না, সেই আলোচনা চলছিল। আর এখন বলছে, মুর্শিদাবাদের ২২টা আসনের মধ্যে ১৪টা তুমি নিয়ে নাও। আর ৮টা আমরা নিই। আমাদের সঙ্গেই থাকো। লজ্জা করে না ?আজকে ১৪টা সিট ছাড়তে চাইছ। ২২টা আসনেই তোমাদের শূন্য করব। ২২টা আসনই ছিনিয়ে নেব। তারপর বিধানসভায় গিয়ে হিসাব-নিকাশ বুঝব। মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর মিলিয়ে ৪৯টা আসন রয়েছে। আর, এই ৪৯টা আসনের মধ্যে ৩৫টা আসনে জিতব।”
আরও পড়ুন: SIR নিয়ে আজ ফের শুনানি সুপ্রিম কোর্টে, সশরীরে নাকি ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন মমতা?
ফিরহাদ হাকিমকে হুঁশিয়ারি
মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিয়েও রবিবার অনুষ্ঠানের সভা থেকে হুংকার দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, “আমি খিদিরপুরে গিয়েছিলাম। আমাকে ঘিরে ধরে সেখানে মারতে আসছে। সিপিএমের বিরুদ্ধে রাজনীতি করতে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে ২৭টা মামলা হয়েছিল। একটানা ৮১ দিন জেলে ছিলাম। তাই বলছি, আগামী দিনে যা হওয়ার হোক, ববি হাকিম যেদিন মুর্শিদাবাদে আসবে, ওর কলার ধরে নামাব। তারপর যদি জেল খাটতে হয় খাটব। কিন্তু, ববি হাকিম তোমাকে আস্ত ফেরত যেতে দেব না। তুমি যদি বন্দরের দাদা হও, গোটা মুর্শিদাবাদের দাদা হল হুমায়ুন কবীর।”