পঞ্চম শ্রেণীতে ফেল, সাড়ে ১২ টাকা নিয়ে ছেড়েছিলেন বাড়ি! সেই ছেলেই আজ ১৬,০০০ কোটির মালিক

Success Story Savji Dholakia know about his sad story

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: “কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না।” কথাটা নিত্যদিনে চলার পথে কারও না কারও মুখে শোনা যায়ই। আর এই প্রচলিত বাংলা প্রবাদকে যাঁরা জীবনের মন্ত্র বানিয়েছেন, তাঁদের পেছন ফিরে তাকানোর প্রয়োজন পড়েনি (Success Story)। সেই তালিকাতেই প্রথম দিকে রয়েছেন গুজরাতের কোটিপতি হিরে ব্যবসায়ী সাভজি ঢোলাকিয়া (Savji Dholakia)। তবে আজ সফলতার চূড়ায় থাকলেও শুরুটা কিন্তু মোটেই সহজ ছিল না। তবে দারিদ্র্যদাকে কীভাবে জয় করতে হয় গুজরাতের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা ছেলেটা সেটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। বুঝিয়ে দিয়েছে, কার্যত শূন্য পকেটেও টাকার পাহাড় বানানো যায়। আজ না হয় তাঁর জীবনের ওঠা পড়াগুলোকেই একটু ঘেঁটে দেখা যাক।

12 টাকা 50 পয়সা পুঁজি নিয়ে লড়াই শুরু করেছিলেন সাভজি

গুজরাতের দুধলা গ্রামেই বেড়ে ওঠা সাভজি ঢোলাকিয়ার। আর্থিক অনটন এমনভাবে পরিবারকে গ্রাস করেছিল যে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে অভাবের তাড়নায় ছেড়ে দিতে হয়েছিল স্কুল। এখানে বলে রাখি, পরিবারের ব্যাপক অর্থ কষ্টের মধ্যে ঠিকমতো পড়ার বই সহ অন্যান্য সরঞ্জাম কিনতে না পারায় পঞ্চম শ্রেণীতে ফেল করেছিলেন সাভজি। তারপরই স্কুল ছেড়ে দেওয়া। বয়সটা তখন মাত্র 13। শরীরে ফুটন্ত রক্ত। যেই বয়সে, আজকালকার ছেলে মেয়েরা ফোনে ভিডিও গেমস কিংবা অন্যান্য বিনোদন নিয়ে ব্যস্ত থাকে, সেই সময়ে দুটো অর্থ রোজগার করে পরিবারের মুখে কীভাবে হাসি ফোটাবেন তা ভেবে ভেবেই রাতে চোখের পাতা এক করতে পারত না কিশোর সাভজি।

সালটা 1977। সে বছর বুকে ভরা জেদ এবং অর্থ রোজগারের খিদে নিয়ে মাত্র 12 টাকা 50 পয়সাকে পুঁজি করেই সুরাত শহরে পাড়ি দেয় গুজরাতের গ্রাম্য ছেলেটা। লক্ষ্য ছিল, কোথাও একটা কাজ করে পরিবারে টাকা পাঠানো। যেমন ভাবা তেমন কাজ। সুরাত শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে ঘুরে শেষ পর্যন্ত হিরের কারখানায় কাজ জুটিয়ে ফেলেন সাভজি। তখন হিরের কারখানায় কাজ করে মাসে আয় হতো 179 টাকা। সেখান থেকে প্রতিমাসে 39 টাকা করে জমিয়ে বাকি অর্থ পাঠিয়ে দিতেন পরিবারে।

অবশ্যই পড়ুন: দেশেই তৈরি হবে ৬টি অত্যাধুনিক সাবমেরিন! জার্মানির সাথে বড় প্রতিরক্ষা চুক্তির পথে ভারত

উরতি বয়েসে, স্বপ্ন আকাশ সমান। সাভজির ক্ষেত্রেও এই নিয়মের অন্যথা হয়নি। প্রতিমাসে নিজের বেতন থেকে 39 টাকা করে জমিয়ে নিজে একটা ব্যবসার জায়গা তৈরি করার স্বপ্ন দেখতেন ঢোলাকিয়া। সেখান থেকেই তিল তিল করে অর্থ জমিয়ে 1984 সালে ভাইদের সাথে হরি কৃষ্ণ এক্সপোর্টস নামক একটি কোম্পানি খুলে হিরের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। হিরের ব্যবসায় আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি আছে। তার উপর প্রতিযোগিতার বাজার। টিকে থাকতে পারবেন তো। এইসব চিন্তাই দিনরাত কুড়ে কুড়ে খেতো সাভজিকে। তবে একাগ্রতা, চেষ্টা, শক্তি এবং বিশ্বাস এই চার শব্দকে শক্তি বানিয়ে শেষ পর্যন্ত হিরের ব্যবসায় ফুলেফেঁপে ওঠেন সাভজি। এরপর সেখান থেকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি।

নিজের ব্যবসার প্রতি নিষ্ঠা এবং প্রবল সংগ্রামকে সাথে নিয়েই আজ হিরের সাম্রাজ্য গড়ে ফেলেছেন ভারতীয় ব্যবসায়ী সাভজি ঢোলাকিয়া। একাধিক মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, সাভজির হরি কৃষ্ণ এক্সপোর্টসের বার্ষিক আয় আজকের দিনে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা। 2024 আর্থিক বছরে এই সংস্থা 3030 কোটি টাকা রোজগার করেছে। 2025 এ পৌঁছে সেই পরিমাণটা আরও বেড়েছে বই কমেনি। তবে যদি সাভজির মোট সম্পদ নিয়ে কথা বলা যায় সেক্ষেত্রে, একাধিক মিডিয়া রিপোর্ট বলছে, এই মুহূর্তে 16,000 কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক ঢোলাকিয়া।

অবশ্যই পড়ুন: ঘরে দুটো লাইট, লক্ষাধিক টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল মেটাতে জমি বিক্রি করলেন দরিদ্র দম্পতি

উল্লেখ্য, নিজের জীবন সংগ্রাম সহ বিপুল সম্পদের পাশাপাশি কর্মীদের বোনাস বাবদ দামি দামি উপহার দেওয়ার জন্যও পরিচিত সাভজি। অনেকেই হয়তো জানেন, এই ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রত্যেক বছর দীপাবলীর সময় তাঁর সংস্থার কর্মীদের উপহার বাবদ বাড়ি, শতাধিক স্কুটার, বিলাসবহুল ফোরহুইলার থেকে শুরু করে একাধিক নামিদামি উপহার দিয়ে থাকেন। এই সবটাই দেওয়া হয় বোনাস হিসেবে। বলে রাখি, গতবছর 3 কোটিরও বেশি অর্থ খরচ করে 3 জন কর্মচারীকে তিনটি মার্সিডিজ বেঞ্জ জিএলএস এসইউভি গাড়ি উপহার দিয়ে শিরোনামে উঠে এসেছিলেন ঢোলাকিয়া।

Leave a Comment