‘পরমাণু ভাণ্ডার বাড়াবে দিল্লি!’ কানাডা-ভারতের ইউরোনিয়াম চুক্তিতে কান্নাকাটি পাকিস্তানের

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আন্তর্জাতিক কূটনীতির অঙ্গনে এবার নতুন চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে ভারত আর কানাডার সাম্প্রতিক ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি (India-Canada Agreement)। দুই দেশের মধ্যে ২.৬ বিলিয়ন ডলারের একটি দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে খবর। আর এই চুক্তির লক্ষ্য হল ভারতের বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির জন্য দীর্ঘ সময়ের জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। তবে সমস্যা হল এই নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করছে পাকিস্তান (Pakistan)। কারণ, দেশটির বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারত-কানাডা সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

কী বলছে পাকিস্তান?

পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মতে, এই চুক্তি পারমাণবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার মত পদক্ষেপ তা বলা যায়। কিন্তু তাদের স্পষ্ট দাবি, ভারতের সমস্ত বেসামরিক পারমাণবিক স্থাপনা এখনো পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতায় নেই। আর যদি অতিরিক্ত ইউরোনিয়াম সরবরাহ করা হয়, তাহলে ভারত ভবিষ্যতে তার পারমাণবিক সক্ষমতা আরও দ্রুত বাড়াতে পারে। যার ফলে দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং সামরিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম বাধা বিঘ্নতা আসতে পারে।

এদিকে ভারত এবং কানাডার এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হল ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করা। চুক্তি অনুযায়ী, কানাডার সংস্থা Cameco আগামী কয়েক বছর ভারতে ইউরেনিয়াম সরবরাহ করবে। পরিকল্পনামাফিক, ২০২৭ সাল থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত মোট ২২ মিলিয়ন পাউন্ড ইউরেনিয়াম ভারতে পাঠানো হবে। আর এই জ্বালানি মূলত বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘সংঘাতে সমস্যা মেটে না..’ পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে প্রথম বিবৃতি মোদির

ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা

বিশ্লেষকদের বক্তব্য অনুযায়ী ভারতের মূল লক্ষ্য হল, আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন আরও বাড়ানো। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৪৭ সালের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা নূন্যতম ১০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করতে হবে। আর এই লক্ষ্য পূরণে স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে ইউরেনিয়াম আমদানির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ভারতের শক্তি নিরাপত্তার জন্য বিরাট পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমনকি শুধুমাত্র ইউরেনিয়াম সরবরাহ নয়, বরং ভবিষ্যতে ছোট মডেলকিউলার রিয়াক্টর এবং উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে বলে খবর। আর এই ধরনের আধুনিক রিয়াক্টর তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ কার্যকর হবে বলে জানা যাচ্ছে।

Leave a Comment