সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোট কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো নিয়ে এবার বড়সড় প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশনের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। রাজ্যের বহু বুথে এখনও পর্যন্ত নূন্যতম পরিষেবা নেই, এমনই অভিযোগ তোলা হয়েছে। বুধবার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি সেরেছে। জানা গিয়েছে, এই মামলা দায়ের করেছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য। অভিযোগ, ভোটারদের জন্য যে সমস্ত সুবিধা থাকা বাধ্যতামূলক, সেগুলি ভোটকেন্দ্রে নেই।
কমিশনের ভূমিকা জানতে চাইছে আদালত
আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের পরিকাঠামো কেমন রয়েছে তা খতিয়ে দেখা নির্বাচন কমিশনেরই দায়িত্ব। এমনকি প্রয়োজন অনুযায়ী কমিশন রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেছে বেঞ্চ। সেই কারণে আদালত নির্বাচন কমিশনের কাছে বিস্তারিত লিখিত রিপোর্ট চেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বুথগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কমিশন ঠিক কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সেই সমস্ত রিপোর্টও জমা দিতে হবে আদালতে। আর ওই রিপোর্ট জমা দেওয়ার এক সপ্তাহ পর মামলার শুনানি হবে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সুবিধার্থে কয়েকটি মৌলিক পরিষেবা থাকা বাধ্যতামূলক বলে জানানো হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বিদ্যুৎ সংযোগ, নিরাপদ পানীয় জল, শৌচালায়, প্রতিবন্ধী এবং বয়স্কদের জন্য র্যাম্প। তবে অভিযোগ উঠছে, পশ্চিমবঙ্গের বহু বুথে এখনও পর্যন্ত এই পরিষেবাগুলি পাওয়া যায় না। আর ভোটের দিন সকাল থেকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে ভোটারদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
আরও পড়ুন: বিপদ ডেকে আনবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার! আর্থিক সমীক্ষায় মোদী-মমতা উভয়কে সতর্কবার্তা
মাঝপথে থেমে যায় পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ
উল্লেখ্য, এর আগে ভোট কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল রাজ্য সরকারের সংস্থা ম্যাকিনটোশ বার্নকে। তবে সেই সংস্থা মাঝপথে কাজ ছেড়ে দিয়েছিল বলেই অভিযোগ। মামলাকারীদের দাবি, মোট কাজের মাত্র ৪০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছিল। ফলত, এখনও রাজ্যের বহু বুথের অবস্থা শোচনীয়। আর সামনে যেহেতু বিধানসভা নির্বাচন, তাই ভোটকেন্দ্রগুলির বেহাল পরিকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শমিক ভট্টাচার্যের পক্ষ থেকে আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে বিষয়টিকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করা হয় এবং সমস্ত সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। এখন দেখার, কমিশন এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়।