প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আজ মকর সংক্রান্তি। বাংলার ঘরে ঘরে তাই পৌষ-পার্বণ, পিঠে-পুলি উৎসবের প্রস্তুতি চলছে। নতুন বছর পড়তে না পড়তেই একের পর এক উৎসবের মেজাজ শুরু হয়েছে বাংলা জুড়ে। কিন্তু পৌষ সংক্রান্তির ছুটি নেই প্রাথমিক স্কুলগুলিতে। কিছুদিন আগে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ যে ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে এই ছুটি অন্তর্ভুক্ত নেই। এমতাবস্থায় বেশ কিছু জেলায় নিজেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রাথমিক স্কুলগুলিতে (Primary Schools) ছুটি দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, উৎসবের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পর্ষদে নেই কোনো ছুটি!
পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের যে বাৎসরিক ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছিল, সেখানে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদগুলিকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। পর্ষদের ছুটির তালিকার ৪১ নম্বর ক্রমিক অনুযায়ী, জেলা সংসদগুলি স্থানীয় প্রয়োজন ও উৎসবের কথা মাথায় রেখে একটি অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করতে পারে। সেই প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেই এবার বেশ কয়েকটি জেলায় মকর সংক্রান্তির ছুটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের অন্তত ছ’টি জেলা এই ছুটি দিচ্ছে। সেই তালিকায় কলকাতা, হাওড়া ছাড়াও রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ। বাকি কিছু জেলাও সেই পথে হাঁটছে বলে জানা গিয়েছে।
নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগ করে ছুটি!
মকর সংক্রান্তির ছুটি উপলক্ষে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পাল জানিয়েছেন, ‘আমাদের সরকারি নির্দেশিকা মেনেই ছুটি দিতে হয়েছে। সরকারি ক্যালেন্ডারে পৌষ সংক্রান্তির ছুটি দেওয়া নেই। সব মিলিয়ে ৬৫ টির বেশি ছুটি দেওয়া যায় না। পুজোর লম্বা ছুটি থাকায় অন্য ছুটি কাটছাঁট করতে হয়েছে। তবে, ডিপিএসসিগুলি নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগ করে ছুটি দিতে পারে। আমাকে ওই সমস্ত জেলার নির্দেশিকাগুলি আরও একবার দেখতে হবে।’ ছুটি প্রসঙ্গে কলকাতা ডিপিএসসি’র এক শীর্ষকর্তা বলেন, শিক্ষকদের তরফে আবেদন ছিল। তাই ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আরও পড়ুন: বাংলায় নিপা সন্দেহে ফের হাসপাতালে ভর্তি ২ জন, বাড়ছে উদ্বেগ
প্রসঙ্গত, মকর সংক্রান্তি শুধু একটি উৎসব নয়, বরং গ্রাম বাংলার কৃষি ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত এক মহোৎসব। আর এই দিনটি ঋতু পরিবর্তনের বার্তা বহন করে। শুধু তাই নয়, সমাজে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তাও দেয়। তাই এই উৎসবকে গুরুত্ব দিয়েই বাচ্চাদের এই সংস্কৃতির মেলবন্ধন বোঝাতে বিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে সপ্তাহের শুরুতেই স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিবস পড়ায় প্রতিটি স্কুলে ছুটি দেওয়া হয়েছিল, তার পরেই সপ্তাহের মাঝখানে এই ছুটি পড়ায় পড়ুয়া ও শিক্ষক মহলে বেশ খুশির মেজাজ দেখা দিয়েছে।