‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার MA ফিল করলেও …’ বকেয়া DA মামলায় নাটকীয় মোড়? এল বড় খবর

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ডিএ (Dearness allowance) নিয়ে বাংলার সরকারি কর্মীদের আশঙ্কাই যেন সত্যি হল। বকেয়া DA প্রদানের জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে নতুন করে সময়সীমা চাইল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সাফ কথা, এখনই তাঁরা ডিএ দিতে পারবে না। যে কারণে এই মামলায় নতুন করে সর্বোচ্চ আদালতে ‘M.A’ করেছে সরকার। যদিও তা ফাইলিং হয়নি বলে খবর। এরই মধ্যে নয়া হুঁশিয়ারি দিলেন কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়। তিনি জানালেন, ‘দেখা যাক, লড়াই জারি থাকবে।’

চরম হুঁশিয়ারি সরকারি কর্মীদের

তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘সরকার MA করলেও Filling is not done yet. দেখা যাক লড়াই জরি থাকবে।’ এরপর অপর একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘নির্লজ্জ বেহায়া, আবারও এম.এ অ্যাপ্লিকেশন করলো।’ অন্যদিকে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেছেন, ‘রাজ্য M.A ফাইল করে অধিকার আটকাতে চেয়েছে। এমনকি ২৫ শতাংশ দেবার জন্যও ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময় চেয়েছে! লড়াই জোরদার করতে হবে।’

সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মূলত পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া DA পেতে চলেছেন রাজ্য সরকারের ৩,১৭,৯৫৪ জন কর্মচারী, সবাই নন। পাবেন রাজ্য সরকারের পেনশনাররা। তবে বৃহত্তর কর্মচারীরা (শিক্ষক,শিক্ষাকর্মী,পঞ্চায়েত ও পৌর কর্মী প্রমুখ) এই বকেয়া পাওনা থেকে বাদই থাকতে চলেছেন। রাজ্য সরকার তার ২১৫ পাতার মডিফিকেশন আবেদনে সুপ্রিম কোর্টে যে পিটিশন জমা করেছে তার আইনজীবী মারফত।

কী বলছে রাজ্য সরকার?

শুক্রবার, রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। তারা ডিএ মামলায় রায় কার্যকর করার জন্য আদালতের কাছে সময়সীমা বাড়ানোর জন্য একটি নতুন আবেদন জমা দেয়। শুক্রবার রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে যে ডিএ প্রদানের আদেশ বাস্তবায়নে তারা বেশ কয়েকটি প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। সরকার তাদের আর্থিক অসুবিধাগুলিও তুলে ধরেছে। এই কারণেই তারা আদালতের রায় অনুসরণ করার জন্য আরও সময় চেয়েছে। রাজ্য সরকার তাদের আবেদনে দাবি করেছে যে অল্প সময়ের মধ্যে এত বিশাল আর্থিক প্রতিশ্রুতি পূরণ করা প্রায় অসম্ভব। সরকার ব্যাখ্যা করেছে যে মুলতুবি ডিএ গণনা করার জন্য ৩.১৭ লক্ষেরও বেশি বর্তমান কর্মচারীর পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ DA না দেওয়ার জন্য বিরাট যুক্তি রাজ্য সরকারের, কবে মিলবে বকেয়া? জানাল সময়

রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে যে ২০১৬ সালের আগে, সমস্ত কর্মচারী তথ্য ডিজিটাল ছিল না। এই হাতে লেখা রেকর্ডগুলি, যা পরিষেবা বইতে রাখা হয়, যাচাই করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ফলস্বরূপ, ভোটের মুখে এই তথ্য ডিজিটালাইজেশন এবং তারপর যাচাই করার প্রক্রিয়াটি অনেক সময় নিচ্ছে। এর ফলে নতুন করে বাংলার সরকারি কর্মীরা ফের একবার অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে চলেছেন। বারবার সুপ্রিম নির্দেশ সত্ত্বেও ডিএ না পাওয়া, সরকারি কর্মীদের কাছে কতটা ধাক্কার সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

চালু পোর্টাল

সরকার আরও জানিয়েছে যে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের তথ্য আংশিকভাবে ‘ইন্টিগ্রেটেড ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (IFMS) তে পাওয়া যাচ্ছে এবং এই তথ্য ব্যবহার করে গণনা শুরু হয়েছে। তবে, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের তথ্যের জন্য, তারা একটি পৃথক অনলাইন পোর্টাল তৈরি করছে। যাচাইয়ের জন্য কর্মীদের এই পোর্টালে তাদের বিবরণ আপলোড করতে হবে। ফলে সবদিক থেকে বিচার করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের কাছে কমপক্ষে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। এটি ডিএ-র প্রথম ২৫% কিস্তি পরিশোধের জন্য, যা আদালত ৩১ মার্চের মধ্যে পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছিল। এদিকে চুপ করে বসে নেই আন্দোলনকারীরাও। সরকারের এহেন পদক্ষেপের পর রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা পাল্টা সতর্কবার্তা জারি করেছেন। তারা ১৩ মার্চ, শুক্রবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।

Leave a Comment