সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ সব্যসাচী-সুস্মিতার (Sabyasachi-Susmita) ব্যক্তিগত ঝামেলা এখন সবার চোখের সামনে। আজ কথা হচ্ছে সাংবাদিক সব্যসাচী চক্রবর্তী (Sabyasachi Chakraborty) এবং অভিনেত্রী, ভ্লগার সুস্মিতা রায় চক্রবর্তীকে (Susmita Roy Chakraborty) নিয়ে। বর্তমান সময়ে এই দুজনের সম্পর্ক নিয়ে কাঁটাছেড়া নেটিজেনদের অন্যতম প্রিয় বিষয় হয়ে উঠেছে। ফেসবুক, ইউটিউব খুললেই দুজনের রীতিমতো ‘কলতলার ঝগড়া’ চোখে পড়ছে। একদিকে যখন ভোটকে কেন্দ্র করে সমগ্র বাংলা গরম, তেমনই এই দুজনের সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়ে উত্তপ্ত নেটপাড়া। একে অপরকে লক্ষ্য করে চলছে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ। সব্যসাচী যেমন সুস্মিতার ৫টা বিয়ে নিয়ে প্রসঙ্গে টেনেছেন, তেমনই অন্যদিকে সুস্মিতা সব্যসাচী চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে নানারকম অভিযোগ করেছেন।
সব্যসাচী-সুস্মিতার সংঘাত চরমে
এমনিতেই সম্প্রতি সুস্মিতা নতুন বিয়ে করেছেন যা সকলকে অবাক করে দিয়েছে। কারণ ২০২৫ সালে সব্যসাচী এবং সুস্মিতা দুজনেই বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়টি সকলকে জানান। সেখানে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে সুস্মিতা কীভাবে প্রেমে পড়লেন এবং বিয়ের মতো এত বড় সিদ্ধান্ত নিলেন তা সকলকে অবাক করে দিয়েছে। এদিকে অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী সুস্মিতার বিয়ে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন। সুস্মিতাকে সমাজমাধ্যমে কটাক্ষ করেন যেন এটাই সুস্মিতার শেষ বিয়ে হয়৷ এরপরেই নিজের আত্মপক্ষ সমর্থন করতে লাইভ করেন ‘নতুন বউ’ সুস্মিতা। লাইভ করে সব সত্যি জানানোর আগে সায়কের সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়৷ সেই কথোপকথন সুস্মিতা সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেছেন৷
সুস্মিতাকে বলতে শোনা যায়, “আমি তোদের কোনও বিষয় কমেন্ট করি না। বহুবার বহু সাংবাদিক জানতে চাইলেও মুখ খুলিনি৷ কিন্তু তোরা যা শুরু করেছিস তার শেষ হওয়া দরকার৷ শেষ ভালভাবে করতে চাইছিস তাহলে ১১.১৫ এর মধ্যে চলে আয়।” অডিওতে সায়ক সাংবাদিকদের আসতে বারণ করতে বলে সুস্মিতাকে৷ কিন্তু সুস্মিতা জানায়, সায়ক লাইভ লোকেশন শেয়ার না করলে সুস্মিতাও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ রাখবেন না৷ তিনি বলেন, “শেষ সাত বছর আমি তোদের কথাই শুনে এসেছি। সাত বছর ধরে তো ব্ল্যাকমেল করছিস৷ এবার আমি নিজে সেটা জানাব।”
এরপর কাহানি মে আরও ট্যুইস্ট আসে। সুস্মিতা লাইভে এসে ভেঙে পড়েন। সব্যসাচীর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আনেন। এমনকি তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধেও একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করতে শনা যায় অভিনেত্রীকে। অপরদিকে চুপ না থেকে সব্যসাচীও সুস্মিতার বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন। উঠে আসে আরও একটা নতুন দিক। সাংবাদিক লেখেন, ‘এসব অন্যের ক্ষেত্রে খবর হয় । আজ আমিই !! আমি আইনি পথেই যাব । ঠিক । তবু আমার চুপ থাকা, ভদ্রতা কেউ দুর্বলতা ভাবলে মুশকিল প্রথমত, সুস্মিতার এটা ৫ নম্বর বিয়ে আমার সাথে আলাপ, দ্বিতীয় বিয়ের সময় আমি একটু ধাক্কা খেলেও হজম করেছি কিন্তু ওর প্রবল সন্দেহবাতিকতা আমি সহ্য করেছি । আমি মার খেয়েছি আর আমার চরিত্র বা যৌনতা প্রশ্নে? এটি প্রত্যেকটা সুস্মিতার ফ্যান্টাসি । আমি আপত্তি তুললে অন্য সম্পর্কে জড়াতো । আমি আইনি ভাবে তার সব প্রমাণ দেবো। বিয়ের পর একাধিক সম্পর্ক ভাই বিয়ে করে না কেন জানেন? কেন তার ওরিয়েন্টশন নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় জানেন? কারণ ও সুস্মিতাকে দেখেছে, বিয়ে নিয়ে ভয় আর মৃত বাচ্চা ? সুস্মিতার সেই প্রশ্ন করা উচিত ওর জিম ট্রেনারকে আমি স্বীকার করছি ।’
সব্যসাচী আরও লেখেন, ‘আমি শারীরিক, মানসিক ভাবে দিনের পর দিন অত্যাচারিত হয়েছি । এসব শুধু মেয়েদের হয় না । আমরাও গিলতে থাকি । সুস্মিতার মারধর,অশান্তি, একাধিক সম্পর্ক বাড়াবাড়ি ছিলো। প্রশ্ন তুললে আমার ঘাড়ে ফেলা হত । আমার চরিত্রে একই ভাবে প্রশ্ন উঠত এভাবেই ও বেরিয়ে গিয়েছিল আরেক ব্যবসায়ীর সাথে । একটা ওয়েব সিরিজ করেছিল তার টাকায় । সুস্মিতা বরাবরই বড়লোক হতে চাইত বিয়ের পর সত্যি আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিলো না । ও এর সুযোগ নিয়ে দিনের পর দিন স্বেচ্ছাচারিতা করে গিয়েছে । বদলে আমাকে গিফট দেওয়ার ব্যবস্থা । আপত্তি প্রবল হলে আমাকে ডিভোর্স আবার ফিরে আসা । আমি এত খারাপ হলে আবার কেন ? কিন্তু না , ওর ইমেজ ঠিক করে দিতে হবে । ভাইয়ের কাছে আবদার । ফ্যামিলি ব্লগিং শুরু । আবার বিয়ে, বাচ্চার দোহাই দিয়ে ! এরপর কোন মানুষে বাচ্চার সাহস পায় আমার জানা নেই । আমার নেই মায়া মায়া! এই মায়া পুরুষ মানুষকে খর্ব করে । আমি বুঝিয়ে গেছি । বলেছি ১:৪ । তুই যদি ১আমার ক্ষতি করিস , আমি কিন্তু আরও ৪ নিজের ক্ষতি করব তাতেও লাভ হলো কই । নিজের ভিডিও তুলে আমাকে দেখতে বাধ্য করা হত । ফ্যান্টাসি উলটোটা, অ্যাস ইফ আমি ওকে জোর করব ভিডিও দে । কেউ দেয় !? কোনও মেয়ে পারে ? কীসের বাধ্যবাধকতা ওর থেকে আর্থিক দুর্বল একটা ছেলের কাছে ? এক্সপ্লয়েট হয়েছি আমি আমার লজ্জা লাগছে আমাকে এই জায়গায় নামাতে হলো ।’
তিনি লেখেন, ‘আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী ওর বিকৃতি একসাথে থেকে সম্ভব ছিলো না । তাই আমাকে আলাদা নিয়ে আসে । ফ্ল্যাটের ডাউন পেমেন্ট ওই করে । ইএমআই , লোন আমার । আমি ওকে সাথ দিয়েছি । মায়ায় । সম্পর্ক বাঁচানো আমার প্রায়রিটি ছিলো , ওর না ! আমার মনে আছে , কোভিডের সময় ওর মা কে বাড়িতে ঢুকতে দেবে না বলে ওর বাবা মেরে নাক ফাটিয়ে দিয়েছিলো । পুলিশ দিয়ে আমি ব্যবস্থা নিইয়েছিলাম । ইমেজ । ইমেজ । ভেতরে যাই হোক , টাকা আর ইমেজ । এবারও ভাইকে প্রেসার করছিল । নতুন বিয়ে । ইমেজ হোক কর । ভাই এই রাতেও রাস্তায় আমি জানি । ও কাঁদছে আমি জানি । সুস্মিতা ওকে বলেছিল আয় না এলে তোদের সম্মান সব নষ্ট করে দেবো । শাবাশ সুস্মিতা । আপনি জিতে গেছেন । আমরা হেরে গেছি । আমি হার মানলাম । সম্পর্ক ছিলো তো আমার । কিন্তু বিবাহিত জীবনে থাকাকালীন কখনও না । ভালোবাসা চেয়েছিলাম । একসাথে থাকতে চেয়েছিলাম । পারভার্সন পেয়েছি , হজম করার ফল আজকের এই অসম্মান । ছেলে , পুরুষ মানুষ , আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি । ছেলেদের চুপ করে থাকতে হয় তাই না ? মার খেতে হয় !? কাঁদতে নেই , এসব না করলে আমি মেয়েলি, গে, অক্ষম! ?’
যদিও নিজের ‘ভুল’ বুঝতে পেরে আজ শুক্রবার আরও একটি পোস্ট করেন সাংবাদিক। তিনি লেখেন, ‘নাহ, কাল নিজের চূড়ান্ত ব্যক্তিগত বিষয়গুলো নিয়ে হ্যাজ নামানো হয়তো উচিৎ হয়নি! কিন্তু অন্যের নোংরামির দায় কেন বা নেব !? কাজে আছি । কাজেই থাকব । ভোট আসছে । এসব নিয়ে আর না । যা করার প্রপার ভাবে করব । ফেসবুকে আর না । যারা গালি দিতে চান , কমেন্ট বক্স তো খোলা । স্বাগত, আর যারা আমাদের পরিবারকে ভালোবাসেন তাদের ভালোবাসা আরও বড়, জানি। ওটাই ভরসা ছিলো , আছে , থাকবে।’