পাকিস্তানে হাহাকার! কর্মীদের ৩০% বেতন কাটল সরকার

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সংকটের মুখে কত কিছু যে করতে হবে কাঙাল পাকিস্তানের (Pakistan) তা হয়তো ভাবতেও পারবেন না আপনি। হ্যাঁ, টানাটানির মধ্যে পড়ে এবার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিতে কর্মরত কর্মীদের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। চলমান যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল আর ইরান সংঘাতের (Middle East War) জেরে তৈরি হওয়া এই জ্বালানির সংকট মেটানোর জন্যই বড়সড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটল সন্ত্রাসের দেশের প্রশাসন।

জ্বালানি সংকট মেটাতে বড় সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের

প্রসঙ্গত, ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর ইজরায়েলের সংঘাত দিনের পর দিন বাড়ছে। যার কারণে শুধুমাত্র পাকিস্তান নয়, বরং বিশ্বের একাধিক দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। কারণ, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তৈলবাহী জাহাজগুলি আসতে পারছে না, যেহেতু ইরান সেখানে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আর সেই কারণেই বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। এমনকি সম্প্রতি পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। যার ফলে এখন ১ লিটার পেট্রোলের দামই পড়ছে ৩৪৫ টাকা। অন্যদিকে হাইস্পিড ডিজেলের দাম প্রায় ৩৫৫ টাকা প্রতি লিটার ছুঁয়েছে। সেই বৃদ্ধির ফলে সারা দেশে পরিবহন খরচ এবং খাদ্যের দামের উপর প্রভাব পড়েছে।

এদিকে গ্যাসের শুল্কও দিনের পর দিন বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে এলএনজি আমদানির খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে গৃহস্থালির গ্যাসের দামও ২৫ শতাংশ বেড়েছে পাকিস্তানের। সেই কারণেই এবার জ্বালানি সংকট কাটানোর জন্য বড়সড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে পাকিস্তান। সম্প্রতি অর্থ দফতরের তরফ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, রাষ্ট্রায়ত্ত মালিকানধীন প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলির কর্মীদের বেতন এবার ৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হবে, যাতে ডুবে যাওয়া অর্থনীতিকে কিছুটা হলেও ত্বরান্বিত করা যায়।

আরও পড়ুন: “বাড়িতে আঘাতের চিহ্ন নেই, পার্টি অফিসে ব্যান্ডেজ!” শশী পাঁজাকে একহাত নিলেন সজল ঘোষ

তবে এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই কর্মকর্তারা নিজেদের মত প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, এই পদক্ষেপ সরকারের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। আর পাকিস্তানের সংকট এবং ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক জ্বালানির দামের ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবেলা করতে পারবে। তবে কেউ কেউ দাবি করছে, বিশ্বজুড়ে চলমান সংকটের প্রভাব শুধুমাত্র কর্মকর্তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক না। এদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন যে, জ্বালানি আর গ্যাসের ক্রমবর্ধমান দাম বৃদ্ধি পাকিস্তানের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলতে পারে আর মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। এখন দেখার দেশটির অর্থনীতি আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিনা।

Leave a Comment