সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: শত্রুদের প্রতি আর কোনও দয়া নয়! এবার বিরাট শক্তিশালী হতে চলেছে ভারতের প্রতিরক্ষা খাত (Indian Defence Sector)। হ্যাঁ, ভারতীয় বিমান বাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য মোট ১১৪টি রাফালে যুদ্ধবিমান এবং ছয়টি পি-৮১ সামুদ্রিক টহল বিমানের অনুমোদন দিল কেন্দ্র সরকার। বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১১৪টি রাফালে যুদ্ধবিমান কেনার অনুমোদন
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং-র সভাপতিত্বে ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য এই যুদ্ধবিমান কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই চুক্তির জন্য মোট ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা বাজেট ধরা হয়েছে। এর পাশাপাশি নৌবাহিনীতে শক্তি বাড়ানোর জন্য ছয়টি পি-৮১ সামুদ্রিক টহল বিমানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এমনকি এই চুক্তিটি প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির দ্বারা অনুমোদিত হবে।
তবে এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ভারত সরকার ফরাসি কোম্পানি ডাসল্ট অ্যাভিয়েশনের কাছ থেকে মোট ১৮টি রাফালে বিমান কিনবে। আর বাকি ৯৬টি বিমান ভারতেই তৈরি করা হবে। তবে এই বিমানগুলোর মধ্যে কিছু হবে দুই আসন বিশিষ্ট বিমান। সেগুলি পাইলটদের প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে এই চুক্তিটিকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রচারের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এতে ভারতের প্রতিরক্ষা খাত যে আরও শক্তিশালী হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এদিকে ভারতীয় বিমান বাহিনীর কাছে ইতিমধ্যেই দুটি স্কোয়াড্রনে ৩৬টি রাফালে যুদ্ধবিমান রয়েছে। যার মধ্যে সি ভেরিয়েন্টের শেষ বিমানটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে সরবরাহ করা হয়েছিল। অন্যদিকে নৌবাহিনী এম ভেরিয়েন্টের ২৬টি রাফালে বিমান অর্ডার দিয়েছে, যার বাজার মূল্য ৬৩,০০০ কোটি টাকা। এক কথায়, এই বিমানগুলি আইএনএস বিক্রান্ত ও আইএনএস বিক্রমাদিত্য বিমানবাহিনীকে পরিচালিত করবে। এতে নৌবাহিনী থেকে শুরু করে বিমান বাহিনী আরও খেল দেখাবে।
আরও পড়ুন: কনস্টেবল নিয়োগে দুর্নীতি, বোর্ডকে নম্বর-সহ তালিকা প্রকাশের রায় হাইকোর্টের
বলাই বাহুল্য, গত বছরের মে মাসে অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারত এই রাফালে যুদ্ধবিমানগুলি ব্যবহার করে পাকিস্তানের একের পর এক জঙ্গি ঘাঁটিগুলি নির্মূল করে দিয়েছিল। হ্যাঁ, রাফালে জেটগুলি SCALP ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল, যা কিনা ২৫০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে পারে। আর তার ফল হাতেনাতে পেয়েছিল পাকিস্তান। ফলে ভারতের এই চুক্তি যে পাকিস্তান থেকে শুরু করে শত্রুপক্ষের দেশগুলোর রাতের ঘুম কাড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।