সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবার লগ্নি কেলেঙ্কারি তদন্তে নয়া মোড়। পঞ্জি মামলায় বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির নিলাম প্রক্রিয়া ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ভুয়ো প্রভাবশালী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আর ধৃত ব্যক্তি আর কেউ নন, স্বয়ং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (ED Arrested Kalyan Banerjee), যিনি নিজেকে উচ্চপদস্থ আমলা ও রাজনৈতিক মহলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দিয়ে তদন্ত ও নিলামে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেছিলেন।
এএনআই সূত্রে খবর, ইডির হায়দ্রাবাদ জোনাল অফিসের তরফ থেকে ১০ জানুয়ারি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরের দিন নামপল্লির বিশেষ পিএমএলএ আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে আগামী ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার প্রেক্ষাপট
প্রসঙ্গত, ইডি দীর্ঘদিন ধরেই নওহেরা শেখ এবং তাঁর সহযোগিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যে দায়ের হওয়া একাধিক এফআইআর-এর ভিত্তিতে এই মামলা গড়ায়। অভিযোগ ওঠে, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোট ৫৯৭৮ কোটি টাকার বেশি লগ্নি হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছিল। এমনকি বছরে ৩৬ শতাংশের বেশি লাভের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে বিনিয়োগকারীদের একটা টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি আর মূলধন তো নয়ই।
তদন্তে উঠে আসে, এই বিপুল অংকের অর্থের একটি বৃহৎ অংশ নওহেরা শেখ তাঁর সংস্থা এবং আত্মীয়দের নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি কেনার জন্য কাজে লাগায়। তবে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪২৮ কোটি টাকা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পেরেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আর এই সংক্রান্ত একাধিক চার্জশিট বিশেষ আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
ED, Hyderabad Zonal Office, has arrested Kalyan Banerjee, an imposter who was trying to interfere in the working of the ED, on 10.01.2026 in connection with an ongoing investigation under the PMLA, 2002 in a case against Mrs. Nowhera Shaik & others in a matter related to… pic.twitter.com/NNQZHy0jyR
— ED (@dir_ed) January 12, 2026
আরও পড়ুন: এক ক্লিকেই জানান জমি সংক্রান্ত অভিযোগ, অ্যাপিল মডিউল চালু করছে নবান্ন
নিলাম আটকানোর চেষ্টা
প্রসঙ্গত, বিনিয়োগের টাকা ফেরত দিতে বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি নিলামের অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ইডি। সেই সূত্রে শীর্ষ আদালতের পর এমএসটিসি-র মাধ্যমে একাধিক সম্পত্তি নিলামের জন্য তোলা হয়। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, নওহেরা শেখ বারবার আইনি পথে নিলাম বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন। এমনকি ৫ জানুয়ারির একটি নিলাম আটকানোর জন্য করা আবেদন তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট খারিজ করে দেয়। আর আদালত ৫ কোটি টাকা জরিমানা ধার্য করে এবং সেই অর্থ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ইডি অভিযোগ করছে, আইনি লড়াইয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর নওহেরা শেখ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে মাসিক পারিশ্রমিক আর কমিশনের ভিত্তিতেই কাজে লাগিয়েছিলেন। সেই কারণে কল্যাণ নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে ইডি আধিকারিকদের ফোন এবং বার্তা পাঠাতেন। কখনও উচ্চপদস্থ আমলা, কখনও রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করে নিলাম প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করতেন তৃণমূলের এই সাংসদ। এমনকি ইডি আধিকারিকরা আইনি নিয়ম মেনে চলার কথা জানালে তিনি হুমকি এবং চাপ সৃষ্টি করারও পথ বেছে নেন। আর সেই সূত্রেই ১০ জানুয়ারি সেকেন্দ্রাবাদে কল্যাণের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। আর সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।