প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এই অবস্থায় রাজ্যে সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচন করার লক্ষ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে (Central Force) আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। সেক্ষেত্রে প্রতিটি পর্যায়ে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করতে পারে বলে মনে করছে কমিশন (Election Commission Of India)। পাশাপাশি, সতর্ক করা হয়েছে বাহিনীকে। সিইও জানান, যদি কোনও বুথের মধ্যে অশান্তি হয়, তবে তার দায় সিআরপিএফের।
ভোট শৃঙ্খলা নিয়ে বড় পদক্ষেপ কমিশনের
রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ সোমবার, মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, “যেহেতু বাংলায় এই নির্বাচন দুই দফায় হতে চলেছে তাই এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে চলেছে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। তাই ভোটের প্রতিটি পর্যায়ে প্রায় ২,০০০ থেকে ২,৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন হতে পারে। ভোটকেন্দ্রে কোনও গন্ডগোল হলে তা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর। শুধু তাই নয়, কোনও অনৈতিক কাজকর্ম দেখলেও তারা সেটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবে।”
গন্ডগোলের জন্য দায়ী থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী
সতর্কবার্তা স্বরূপ মনোজ কুমার আগরওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, “সিআরপিএফ কোনও সুবিধা নেবে না। জেলাশাসকদেরও তেমনই নির্দেশ দেওয়া হবে। যদি কেউ সুবিধা নেয় তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। অতীতে সুবিধা নেওয়ার জন্য সিআরপিএফ কর্মীর শাস্তি হয়েছে। বুথের ভিতরে কোনও রকম অনিয়ম হলে বা কোনও ধরনের গন্ডগোলের জন্য দায়ী করা হবে সিআরপিএফ-কেই।” তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে কোনও অসুবিধা হবে না। কারণ সেই সময় অন্য রাজ্যের ভোট শেষ হয়ে যাবে।’’ মনোজের কথায়, ‘‘শান্তিতে ভোট করানোর জন্য যে কোনও ধরনের সাহায্য করবে কমিশন। আধিকারিকদের শুধু সাহায্য চাইতে হবে।’’
আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর প্রতিপক্ষ প্রায় চূড়ান্ত, কাকে মাঠে নামাচ্ছে তৃণমূল?
অন্যদিকে ভোটের আগে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। তাই রাজ্যের প্রতিটি থানাকে তাদের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে প্রতিটি থানার ওসিকে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে যদি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন পরে কমিশন তা করতে প্রস্তুত।