প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: কয়লা পাচার মামলায়, I-PAC-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সেক্টর ফাইভের অফিসে ED-র হানা (IPAC ED Raid Case) ঘিরে তোলপাড় রাজ্য। মামলার জল গড়িয়েছে হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে। কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে যাবতীয় CCTV ক্যামেরার ফুটেজ ও DVR সংগ্রহ করেছ শেক্সপিয়ার সরণি থানার পুলিশ। শুরু হয়েছিল তদন্ত। এমতাবস্থায় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী, ডিজি-সিপির বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলল ED। অভিযোগের সপক্ষে পিটিশনে ফটোগ্রাফও যুক্ত করল তাঁরা।
শীর্ষ আদালতে বড় দাবি ED -র
রিপোর্ট মোতাবেক, IPACএর মামলায় মুখ্যমন্ত্রী-সহ শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় মোট ১৭ টি ধারায় সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ দায়ের করার আবেদন জানিয়েছে ইডি। প্রতীক জৈনের বাড়িতে একপ্রকার জোর করে সেদিন ঢুকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, কারোর কোনও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি। পঞ্চনামা রেকর্ড করতে বাধা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশ আধিকারিকরা। ভয় দেখানো হয়েছে, তাই সঠিকভাবে পঞ্চনামা রেকর্ড করাও যায়নি বলে অভিযোগ।এখানেই শেষ নয়, মুখ্যমন্ত্রী, ডিজি ও সিপি নিজের হাতে তথ্যপ্রমাণ ছিনিয়ে নিয়েছেন বলেও ইডি শীর্ষ আদালতে জানিয়েছে। প্রমাণস্বরূপ পিটিশনে ফটোগ্রাফও জমা করেছে ED।
৩০৫ ধারায় মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘চুরি’র অভিযোগ!
সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তরফে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ছিল, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৫ ধারায় মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘চুরি’র অভিযোগ আনার আবেদন। ইডির বক্তব্য, তল্লাশির সময় প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে তথ্যপ্রমাণ নিয়ে যাওয়া আইনত চুরির শামিল। এছাড়াও আবেদনে জানানো হয়েছে যে তল্লাশি চলাকালীন প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং অফিসের যে সিসিটিভি ফুটেজগুলো মনোজ ভার্মা, রাজীব কুমার, কলকাতা পুলিশ কমিশনার এবং ডেপুটি কমিশনার বাজেয়াপ্ত করেছেন, সেগুলি যেন সিবিআইকে হস্তান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এবং এই মামলার যাবতীয় খরচ মুখ্যমন্ত্রী সহ শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের উপর আরোপ করার আবেদনও জানিয়েছে ইডি।
আরও পড়ুন: SIR-র চাপে নয়, তৃণমূল কর্মীর হুমকিতে আত্মহত্যা! মুর্শিদাবাদের BLO-র মৃত্যুর নয়া মোড়
IPAC অফিসে ED অভিযানকে ঘিরে একের পর এক রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার ইডি-র পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে পাল্টা এক গুচ্ছ প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, “যদি I-PAC ডিরেক্টর হিসাবেই প্রতীক জৈনের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকে, তাহলে চার বছরে কোনও নোটিস কেন পাঠায়নি? ঠিক নির্বাচনের আগে কী হল, কে নির্দেশ দিল?” তিনি মনে করছেন ইডি-কে এসব করতে ওপর থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাই ইডি বাধ্য হয়ে এসব লিখছে বা মামলা করছে। তবে এখনও ঘটনার সত্যতা কিছুই প্রকাশ্যে আসেনি।