বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: প্রজাতন্ত্র দিবসের পরের দিন অর্থাৎ 27 জানুয়ারি, মঙ্গলবার ভারতের ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এই দিনেই ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই হাত এক হয়েছে (India-EU Trade Deal)। প্রত্যাশামতোই, এদিন দুপক্ষের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা মাদার অফ অল ডিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভনের উপস্থিতিতে নয়া দিল্লির বুকে অনুষ্ঠিত হয়েছিল শীর্ষ সম্মেলন। সেখানেই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে এক হয় ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন অর্থাৎ ইউরোপের 27টি দেশ। আর এই বিশেষ চুক্তির অধীনেই এবার সস্তা হতে চলেছে সুরা পানীয় থেকে শুরু করে বিদেশি গাড়ি সহ একাধিক পণ্য।
ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তির ফলে সস্তা হতে চলেছে এই পণ্যগুলি
প্রথম
ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার ফলে আগামী দিনে ইউরোপে তৈরি বিভিন্ন ফোরহূইলার অর্থাৎ অডি, মারসেডিস বেঞ্জ থেকে শুরু করে BMW, ফিয়েট, ফক্সফোগেনের মতো একাধিক সংস্থার 16 লাখ 30 হাজার টাকার বেশি মূল্যের গাড়িগুলির দাম অনেকটাই কমতে চলেছে। সাধারণত ইউরোপে তৈরি গাড়িগুলির ক্ষেত্রে 110 শতাংশ আমদানি শুল্ক নেয় ভারত। তবে আশা করা হচ্ছে বিশেষ চুক্তির অধীনে ভারত ইউরোপে তৈরি গাড়িগুলির উপর থেকে শুল্ক ধাপে ধাপে কমিয়ে প্রথমে 40 এবং পরবর্তীতে 10 শতাংশে নিয়ে আসতে পারে।
দ্বিতীয়
বিশেষ চুক্তির অধীনে ইউরোপের 27টি দেশ যেমন ভারতকে বিনা শুল্কে বাণিজ্য করার সুবিধা দেবে তেমনই ভারতও এই দেশগুলোর উপর থেকে শুল্ক কমাবে। আর সেই সূত্রেই দাম কমতে চলেছে প্রিমিয়াম ওয়াইন থেকে শুরু করে হুইস্কির মতো সুরা পানীয় গুলির। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রিমিয়াম ওয়াইনের উপর আমদানি শুল্ক 150 শতাংশ থেকে কমিয়ে 20 শতাংশে নিয়ে আসা হতে পারে। এছাড়াও মাঝারি রেঞ্জের ওয়াইনের উপর 30 শতাংশ হুইস্কি, জিন, ভটকা থেকে শুরু করে অন্যান্য সুরা পানীয়র উপর শুল্কের পরিমাণ 40 শতাংশে কমিয়ে নিয়ে আসা হতে পারে। তাতে দেশের বাজারে অনেকটাই কম দামে বিক্রি হবে এইসব সুরা।
তৃতীয়
ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অধীনে দাম কমতে পারে খাদ্য ও গৃহস্থলী পণ্যের। সেই তালিকায় থাকতে পারে অলিভ অয়েল থেকে শুরু করে চকলেট, বিস্কুট, পাস্তা, পেস্ট্রি এমনকি মাংস, বিভিন্ন ফল ও নাশপাতিরও। মনে করা হচ্ছে, অলিভ অয়েলের উপর থেকে শুল্ক তুলে নিতে পারে ভারত। এছাড়াও বিস্কুট, চকলেট এবং পাস্তার মতো খাদ্য সামগ্রীর উপর চাপানো শুল্ক 50 শতাংশ থেকে শূন্যে নামিয়ে আনা হতে পারে। এছাড়াও ফল এবং মাংসে উপর থেকে শুল্ক কমিয়ে 10 শতাংশ করা হতে পারে। দাম কমতে পারে সসেজেরও।
চতুর্থ
ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিশেষ ডিলের অধীনে ক্যান্সার সহ অন্যান্য গুরুতর রোগের ওষুধের দাম অনেকটাই কমতে পারে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। ওষুধের পাশাপাশি বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, বিমানের যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে একাধিক ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর শুল্কের পরিমাণ শূন্যে নামিয়ে আনা হতে পারে।
অবশ্যই পড়ুন: শুধু DA’ই নয়, এবার শূন্যপদ নিয়েও বিরাট হুঁশিয়ারি সরকারি কর্মীদের, হবে বড়সড় কিছু?
পঞ্চম
উপরিউক্ত সমস্ত পণ্যদ্রব্যের পাশাপাশি ইউরোপের সাথে বিশেষ চুক্তির অধীনে ইউরোপের দেশগুলিতে তৈরি রাসায়নিক ও ইস্পাত পণ্যের আমদানির উপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে নিতে পারে ভারত। আর সেটা হলে লোহা, ইস্পাত এমনকি রাসায়নিক পণ্য অনেকটাই সস্তা হবে ভারতের বাজারে।