প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আইপ্যাক অফিসে ইডি অভিযান ঘিরে বিতর্কের রেশ এখনও কাটেনি, প্রায় ১ সপ্তাহের মাথায় কলকাতায় ফের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের তৎপরতা দেখা গেল। জানা গিয়েছে, আজ ভোর থেকেই কলকাতার আলিপুর নিউ রোড নিউ টাউন সহ ৫ জায়গায় সিবিআইয়ের তল্লাশি অভিযান (CBI Raids) শুরু হয়েছে। মূলত ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলাতেই এই তল্লাশি বলে খবর। যদিও তল্লাশি অভিযানে কী কী পাওয়া গিয়েছে, সেই নিয়ে কোনো আপডেট এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
CBI অভিযান কলকাতার ৫ জায়গায়
রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ছটা নাগাদ অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের পাঁচটি পৃথক তদন্তকারী দলের অফিসাররা কলকাতার আলিপুর নিউ রোড নিউ টাউন সহ ৫ জায়গায় পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেন। আলিপুরের বিলাসবহুল আবাসনের ৫ তলায় ব্যবসায়ী নিশা কেজরিওয়ালের ঘরে চলছে তল্লাশি। জানা গিয়েছে, ব্যাঙ্কে বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান বলে তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানানো হয়েছে। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই ওইসব এলাকায় অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ভিড় চোখে পড়ার মত।
আরও পড়ুনঃ ১ এপ্রিল থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পেনশন অফিস, সমস্যায় ৫ লক্ষ পেনশনভোগী
চরম উৎকন্ঠার পরিস্থিতি শাসকদলে
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরেই দেখা যাচ্ছিল দিল্লি থেকে দু’শো-র বেশি তদন্ত অফিসার কলকাতায় এসেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারি হস্টেল ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কিছু হোটেলে রাখা হয়েছে তাঁদের। আর তাই নিয়ে শাসকদল এবং বিরোধী দলগুলির মধ্যে চরম উৎকন্ঠার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এমনকি এও রটে গিয়েছিল যে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বড় কিছু ঘটে যেতে পারে। শাসক দলের একাংশের তরফে শোনা গিয়েছিল যে কয়লা পাচার ও বেআইনি লেনদেনের অভিযোগে তিন জন মন্ত্রীকে ভোটের আগেই গ্রেফতার করা হতে পারে।
আরও পড়ুন: পুলিশে বড় রদবদল, নির্দেশিকা জারি নবান্নের
প্রসঙ্গত, সিবিআই বা ইডি-র অভিযান কখনোই বলে কয়ে হয় না। অর্থাৎ তদন্তের ব্যাপারে আগাম কোনও ইঙ্গিতও দেওয়া হয় না, আর তাতেই বিপাকে পড়ে যায় দুর্নীতবাজরা। তবে ইদানীং অভিযোগ উঠছে যে ইডি এবং সিবিআই-রা, ভোটের আগে ইচ্ছা করে এ ধরনের অভিযান করে। শাসকদল মনে করে এই অভিযানের সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িয়ে আছে। যদিও তদন্তকারীদের মতে রাজনৈতিক নেতাদের কার কার বিরুদ্ধে কী অভিযান বা তদন্ত হবে সেটা কখনোই স্পষ্ট নয়। কিন্তু তদন্তের কাজে যেভাবে বাধা দেওয়া হয়ে থাকে, তা মোটেও বরদাস্ত নয়।