সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: হিংসার আগুনে জ্বলে উঠল মণিপুর (Manipur Violence)। রাজ্যের উখরুল জেলায় নতুন করে হিংসার ঘটনা সামনে আসতে এবার বিরাট পদক্ষেপের পথে হাঁটল প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য জেলাজুড়ে ৫ দিনের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জারি করা হয়েছে কারফিউ এবং জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ঘটেছে অগ্নিসংযোগ ও গুলির ঘটনা
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার লিটান ও সংলগ্ন গ্রামগুলিতে নতুন করে অগ্নি সংযোগ এবং গুলির ঘটনা ঘটে। এর আগে রবিবার প্রায় ২৫টি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক হিংসায় ক্ষতির সম্পূর্ণ পরিসংখ্যান এখনও পর্যন্ত সামনে আসেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে বলে খবর। সবথেকে বড় ব্যাপার, পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে সোমবার সকাল থেকে লিটান ও তার আশেপাশের গ্রামের বহু বাসিন্দা বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েন।
এদিকে রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে ইন্টারনেট বন্ধ করার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। আর এটি প্রতিরোধমূলক ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বলেই দাবি করা হয়। সরকার আশঙ্কা করছে, উস্কানিমূলক পোস্ট, ছবি বা ভিডিও ছড়াতে পারে। আর ভুয়ো খবর পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে। এমনকি জনশান্তি ও আইনশৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে।
Manipur | Internet suspended in Ukhrul District for 5 days.
In view of the volatile law and order situation in Ukhrul District, there is apprehension that some anti-social elements might use social media extensively for transmission of images, posts and video messages inciting… pic.twitter.com/k5ExR8yAyq
— ANI (@ANI) February 10, 2026
আরও পড়ুন: ২ মার্চ হতে পারে বাংলার ভোট ঘোষণা! কয় দফায় হবে নির্বাচন?
কীভাবে শুরু হল সংঘর্ষ?
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যাবেলা লিটান সারেইখং এলাকায় মদ্যপ অবস্থায় এক ব্যক্তির সঙ্গে ঝামেলা থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। এমনকি ওই ঘটনায় টাংখুল নাগা সম্প্রদায়ের স্টার্লিং নামের এক ব্যক্তি গুরুতর জখম হন। তারপর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বলে দিই, লিটান একটি ছোট বাণিজ্যিক শহর, যেটি ইম্ফল থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে ইম্ফল – উখরুল সড়কের উপর অবস্থিত। এই লিটান শহরটিতে টাংখুল নাগা ও কুকি দুই সম্প্রদায়ের বসবাস। তবে দুই গ্রামের মধ্যে পুরনো উত্তেজনা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এমনকি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য জেলাশাসক অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে। পাশাপাশি ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে, আর মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্র বাহিনী।