সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলাদেশকে ফের চাপে ফেলল ভারতের আদানি গোষ্ঠী (Adani Group on Bangladesh)। বকেয়া বিদ্যুৎ এর বিল মেটানোর জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে এবার চিঠি পাঠাল ভারতীয় সংস্থা। প্রথম আলোর রিপোর্ট বলছে, আদানি গোষ্ঠী এবার বাংলাদেশকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, বকেয়া না মেটালে বিরাট ধাক্কা খেতে পারে ওপার বাংলা। এমনকি বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণরূপে ব্যাহত হওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশকে চিঠি আদানি গোষ্ঠীর
ওপার বাংলার সংবাদমাধ্যমের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা গিয়েছে, গত ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে আদানি পাওয়ার লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট অবিনাশ অনুরাগ চিঠি পাঠায়। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, চুক্তি অনুযায়ী তাদের বকেয়া মোট ৫৭ কোটি ২০ লক্ষ মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। তবে এর মধ্যে ৩০ কোটি ডলার নিয়ে কোনও রকম সমস্যা নেই। যার ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক মূল্য ২ হাজার কোটি টাকা। এদিকে হাসিনা সরকারের পতনের পর বকেয়া পৌঁছে গিয়েছিল ৭০ কোটি ডলারে। তবে রিপোর্ট বলছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই বকেয়া কিছুটা হলেও মিলেছে। গত বছরের জুন থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিয়মিত ভাবেই ওপার বাংলা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছে। এমনকি আগের বকেয়ার কিছু অংশও শোধ করা হয়। তবে গত দুই মাসে ফের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ কমিয়েছে তারা। সেই কারণেই পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগে।
রিপোর্ট অনুযায়ী খবর, বিদ্যুৎ উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে মোট ১১ কোটি ২৭ লক্ষ ডলার পরিশোধ করার অনুরোধ করেছে আদানির সংস্থা, যার ভারতীয় মুদ্রায় পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। এই টাকা না পেলে আদানি গ্রুপকে কয়লা আমদানিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলেই জানানো হয়েছে। এমনকি গোটা টাকা কবে শোধ করা হবে তার সময়সীমা জানানোর জন্য মহম্মদ ইউনূসকে অনুরোধ করা হয়েছে। কারণ, মূল বিলের সঙ্গে সারচার্জ যুক্ত হচ্ছে। তাই বকেয়ার অংক দিনের পর দিন আরও বাড়ছে।
আরও পড়ুন: সরকার অচল করার হুঁশিয়ারি! ‘DA চোর দিদিমণি’ স্লোগান আন্দোলনরত কর্মীদের
চুক্তি কী বলছে?
বলে দিই, ২০১৭ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের আদানি পাওয়ার লিমিটেডের চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তি অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে পরবর্তী ২৫ বছর ঢাকাতে বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা জানায় আদানির সংস্থা। তবে হাসিনা সরকারের পতনের পরেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। দিনের পর দিন বকেয়া বাড়তে থাকে, আর ২০১৬ সালের চুক্তি অনুযায়ী মোট ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে আদানি পাওয়ার। তবে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে সেই সরবরাহের পরিমাণ অর্ধেকে নিয়ে আসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বকেয়া মেটানোও কমতে থাকে। সেই কারণে আগেও একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছে আদানি গোষ্ঠী। তবে এবার বকেয়া মেটানোর দাবি উঠল।