‘বকেয়া DA কবে পাবো?’, লাগাতার প্রশ্নে করুণ অবস্থা কর্মচারী সংগঠনগুলির নেতাদের

সহেলি মিত্র, কলকাতা: ‘বকেয়া ডিএ কবে পাবো?’ সুপ্রিম কোর্টের রায়দানের পর এরকম নানারকম প্রশ্নে এখন জর্জরিত কর্মচারী সংগঠনগুলির নেতাদের (West Bengal DA Case)। এমনিতে ২৬-এর বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে জোরদার ঝটকা খেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পঞ্চম বেতন পে কমিশনের আওতায় বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতার ২৫% আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আশায় বুক বেঁধেছেন বাংলার কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মী। কবে কী মিলবে? তা নিয়ে প্রশ্ন করেই চলেছেন সকলে।

সরকারি কর্মীদের প্রশ্নে জর্জরিত সংগঠনের নেতারা

এক কথায় সরকারি কর্মীদের প্রশ্নবাণে করুণ অবস্থা হয়েছে সরকারি কর্মচারী সংগঠনের নেতাদের। একই প্রশ্ন বারবার শুনে এবং সেগুলির উত্তর দিতে গিয়ে অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে সকলের। শোনা যাচ্ছে, নাকি লাগাতার মোবাইল ফোনে তাঁদের কাছে সরকারি কর্মচারীরা জানতে চাইছেন, কবে মিলবে ডিএ? বিরোধী কর্মচারী সংগঠনের একাংশের মতে, সুপ্রিম কোর্ট ডিএ সংক্রান্ত মামলার রায়ে রাজ্য সরকারকে তা প্রদানের জন্য বেশ কিছু শর্ত বেঁধে দিয়েছে। যা অনেকের কাছে স্পষ্ট নয়, তাই নিজেদের মনের ধোঁয়াশা দূর করতে সরকারি কর্মচারী সংগঠনের নেতৃত্বের প্রশ্ন করা হচ্ছে।

কী বলছেন মলয় মুখোপাধ্যায়?

অবশ্য এই বিষয়ে এখন নীরবতা ভেঙেছেন কর্মচারী সংগঠনের নেতা এবং ডিএ মামলাকারী মলয় মুখোপাধ্যায়। তিনি জানালেন, ‘ডিএ পাওয়া নিয়ে প্রতিদিন এত ফোন আসছে, যে জবাব দিতে দিতে আমাদের শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে আমাদের একই প্রশ্নের উত্তর একাধিক বার দিতে হচ্ছে। কখনও আবার এমন সব প্রশ্ন আসছে, যার কোন বাস্তব ভিত্তি নেই। এমন প্রশ্ন আসাটাও অবশ্য স্বাভাবিক, কারণ, আদালতের নির্দেশ আসা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার এখনও কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মেটায়নি। এই অভিজ্ঞতা থেকে কর্মচারীরা নিজেদের মনের প্রশ্ন দূর করতে আমাদের দ্বারস্থ হতেই পারেন।’

অপরদিকে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতা সন্দীপ ঘোষ বলেন, ”৬ মার্চের মধ্যে ডিএর প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার কথা। অনেক সরকারি কর্মচারী ভয় পাচ্ছেন যে, রাজ্য সরকার আবার পাল্টা আবেদনে যেতে পারে। কারণ, তাঁদের পূর্ব অভিজ্ঞতা ভাল নয়। যে কারণে সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাদের কাছে হাজার প্রশ্ন নিয়ে ফোন যাচ্ছে। একটু সমস্যা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর সরকারি কর্মচারীরা আশায় বুক বাঁধছেন। সেই আশা থেকেই হয়তো তাঁরা আমাদের কাছে ফোন করে মনের অন্ধকার দূর করতে চাইছেন।”

Leave a Comment