সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ হকের টাকা কীভাবে ছিনিয়ে নিতে হয়, তা দেখিয়ে দিলেন বাংলার সরকারি কর্মীরা। অবশেষে বকেয়া ডিএ (Dearness allowance) নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Government of West Bengal)। এই নিয়ে একের পর এক বিজ্ঞপ্তি অবধি জারি করা হচ্ছে সরকারের ঘর থেকে। এরই মাঝে ডিএ নিয়ে আরও একটি সুখবর সামনে এল। সপ্তাহান্ত অর্থাৎ শনিবার এবং রবিবারও ডিএ সংক্রান্ত কাজের জন্য খোলা রাখতে হবে অফিস, হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। চলুন আরও বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
ডিএ নিয়ে নতুন নির্দেশ সরকারের
জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার তার স্বরাষ্ট্র বিষয়ক বিভাগের হিসাব শাখা বা অ্যাকাউন্টস ব্রাঞ্চ সপ্তাহান্তে অর্থাৎ আজ ২৮ এবং আগামীকাল ২৯ মার্চ খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে মহার্ঘ ভাতার (ডিএ) বকেয়া প্রক্রিয়াকরণে গতি আনার জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কর্মীদের বকেয়া কাজ শেষ করার জন্য উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘বকেয়া DA ঢুকে গিয়েছে, কিন্তু…’ সরকারের পদক্ষেপের পরেও ক্ষুব্ধ কর্মীরা
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ‘বকেয়া কাজ সময়মতো সম্পন্ন করা নিশ্চিত করতে হিসাব শাখার সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ওই দিনগুলোতে অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ এদিকে সরকারি কর্মীরা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে বকেয়া ডিএ-র টাকা পেতে শুরু করেছেন। এই প্রসঙ্গে বড় তথ্য দিয়েছেন কনফেডারেশন অফ স্টেট গভঃ এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় (Malay Mukherjee)। তিনি ফেসবুকে পোস্ট করে জানিয়েছেন, ‘হাওড়া, শ্রীরামপুর, বারাকপুর, বারাসাত ইত্যাদি ট্রেজারি গুলোতে পেনশনাদের বকেয়া ডিএ ঢুকে গিয়েছে। অন্যান্যগুলো খবর আসছে। ০২.০৪.২৬ থেকে তা তুলতে পারবেন। এছাড়াও ইন-সার্ভিসদের GPF এ টাকা ঢুকেছে।
৩১ মার্চের মধ্যে সবাই টাকা পাবেন?
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো, চলতি মার্চ মাসের ৩১ তারিখের মধ্যেই বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি মেটাতে হবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এদিকে সরকার জানিয়েছে, আপাতত তাঁরা ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া টাকাই দিতে পারবে কর্মীদের। নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী ৩১ মার্চ চলতি অর্থবর্ষের শেষ দিনেই প্রথম কিস্তির টাকা কর্মীদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দিতে হবে। সেই কাজ যাতে বাস্তবায়ন হয় সেজন্য এখন ছুটির দিনেও অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার বলে খবর।