বঙ্গভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে মমতার, একযোগে নিশানা কমিশন, মিডিয়াকে!

Mamata Banerjee

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গতকাল অর্থাৎ সোমবার বিকেল ৪টের সময় দিল্লিতে কমিশনের দফতরে বৈঠক করবেন বলে রবিবারই দিল্লি গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এদিন নির্বাচন সদনে পৌঁছন মমতা সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও SIR ক্ষতিগ্রস্তদের একাংশ। প্রতিবাদ জানাতে সকলের পরনেই ছিল কালো পোশাক। ১ ঘণ্টার বৈঠক শেষে কমিশন থেকে বেরিয়ে ফের কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ‘আমি অনেক দিন দিল্লিতে রাজনীতি করেছি। মন্ত্রীও ছিলাম। কিন্তু এত দিনে এমন অহঙ্কারী নির্বাচন কমিশন দেখিনি।’ আর তাতেই বোঝা যায় বৈঠকেও কোনো সুরাহা মেলেনি। এবার এই নিয়ে নয়া পদক্ষেপ নিলেন মমতা।

বঙ্গভবনে সাংবাদিক সম্মেলন মমতার

রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা তথা এসআইআর নিয়ে যখন একের পর এক তরজা চরমে উঠছে ঠিক সেই সময় আজ দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর প্রক্রিয়ায় মৃতদের পরিজনদের দুর্দশার কথা এবং নির্বাচন কমিশনের নিরীহ অত্যাচারের দৃশ্য দেশের সামনে তুলে ধরতেই এই কনফারেন্সের আয়োজন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রয়োজন বলেই আজ সকাল থেকেই বঙ্গভবনের নিরাপত্তায় রাজ‌্য পুলিশের ২২ জনের একটি দল রয়েছে। দলের শীর্ষে রয়েছেন ডিএসপি পদমর্যাদার অফিসার।

কমিশনকে আক্রমণ মমতার

সাংবাদিক সম্মেলন শুরু হতেই নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমি কমিশনকে ৬ চিঠি লিখেছি। জবাব পাইনি। সুপ্রিম কোর্টের কথাও মানছে না কমিশন। কোনও পথ খোলা ছিল না। আমি বিচারব্যবস্থাকে সম্মান করি। মামলা বিচারাধীন। কিছু বলতে চাই না। তবুও বলছি, শেষ এসআইআর হয়েছিল ২০০২ সালে, কিন্তু এবার নির্বাচন। তাই পুনরায় কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই SIR হচ্ছে। শুধু বিরোধী রাজ্যে এসআইআর হচ্ছে। কিন্তু আসামে হচ্ছে না।” নামের তালিকা বাদ দেওয়া নিয়ে মমতা সীমা খান্নার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, “৫৮ লক্ষের নাম বাংলায় বাদ দিয়েছে। বিজেপি সীমা খান্নাকে বসিয়েছে। AI ব্যবহার করে নাম বাদ দিচ্ছে। ইআরও-র সই নেয়নি। যা সম্পূর্ন বেআইনি।”

সংবাদমাধ্যমকে তোপ মমতার

SIR আতঙ্কে রাজ্যে আত্মহত্যার সংখ্যা বেড়েই চলেছে, আর সেই কারণে কমিশন তথা বিজেপিকে এসআইআর নিয়ে তীব্র আক্রমণ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ”দিল্লি সংবাদমাধ্যমের তো জানার কথা নয়, বাংলায় কী ঘটছে! গোদী মিডিয়া এসব দেখাবে না। কি হারে মাইক্রো অবজার্ভাররা জমিদারি ফলাচ্ছে। কী হারে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। কেউ আত্মহত্যা করেছেন, কেউ অসুস্থ। ডাক্তার, শিক্ষকদেরও শুনানির জন্য ডেকেছে। গতকাল আমি বলেছি কমিশনকে, আপনারা হত্যাকারী। গণতন্ত্রে কে সরকার নির্বাচন করে, কমিশন করে নাকি?”

আরও পড়ুন: মাটির নীচ দিয়ে সেনার কাছে পৌঁছবে অস্ত্র, চিকেন নেক-এ বড় প্ল্যান ভারতের

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে অমিত শাহ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সীমান্তে বেড়া দিতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। এমনকি ইচ্ছে করে অনুপ্রবেশদের ঢোকাতে সাহায্যের অভিযোগ করেছিলেন মমতার বিরুদ্ধে। এবার সেই নিয়ে দিল্লির সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হলেন। তিনি বলেন, “সীমান্তে বিএসএফ রয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের আটকানোর দায়িত্ব কার। কার নিয়ন্ত্রণে সীমান্ত। আসাম, ত্রিপুরাও বাংলাদেশ সীমান্তে। রোহিঙ্গারা ওদিক দিয়ে ঢুকছে। আপনাদের দায়িত্ব সেটা দেখা।”

Leave a Comment