বছরে যাতায়াত করবেন ৯ কোটি মানুষ, তৈরি হচ্ছে দেশের প্রথম অফশোর এয়ারপোর্ট!

India’s First Offshore Airport at vadhavan Maharashtra

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: দেশের প্রথম অফশোর অত্যাধুনিক বিমানবন্দর তৈরি হতে চলেছে মহারাষ্ট্রে (India’s First Offshore Airport)। ইন্ডিয়া টুডের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলা উপকূল বরাবর ভাধাবনে প্রথমবারের মতো অফশোর বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা চলছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই বিমানবন্দরটি তৈরি করতে খরচ পড়বে প্রায় 45 হাজার কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, এই বিমানবন্দরটি একবার তৈরি হয়ে গেলে প্রত্যেক বছর কম করে 90 মিলিয়ন যাত্রী এই বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন। সেই সাথে চাপ কমবে মুম্বই মেট্রোপলিটন অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলির উপর।

প্রধান এয়ার কার্গো হাব তৈরি হবে এই বিমানবন্দরে

ইন্ডিয়া টুডের রিপোর্ট বলছে, বিশেষ প্রকল্পের অধীনে প্রথমে 25 হাজার কোটি টাকা খরচ করে জমি পুনরুদ্ধার করা হবে। এরপর 45 হাজার কোটির বাকি অর্থ দিয়ে তৈরি হবে বিমানবন্দরের অবকাঠামো যেমন টার্মিনাল থেকে শুরু করে রানওয়ে সহ অন্যান্য এয়ার সাইড এবং ল্যান্ড সাইড ব্যবস্থা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের প্রথম অফশোর বিমানবন্দরটি যে শুধুমাত্র যাত্রীদের ভ্রমণের জন্যই তৈরি করা হচ্ছে তা একেবারেই নয়। জানা যাচ্ছে, এই বিমানবন্দরটিকে প্রধান এয়ার কার্গো হাব হিসেবেও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বেশ কয়েকটি সূত্র দাবি করছে, এই বিমানবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে বিশ্ব বাজারের সাথে ভারতের শিল্প অঞ্চলগুলিকে সংযুক্ত করা যাবে। এখন প্রশ্ন কোথায় তৈরি হবে এই বিমানবন্দর? প্রথমে বলি, সামুদ্রিক উপকূল বা সমুদ্রের উপর কৃত্রিমভাবে দ্বীপ তৈরি করে যে ফ্লোটিং বা আধুনিক বিমানবন্দর তৈরি করা হয় সেগুলিকেই বলা হয় অফশোর বিমানবন্দর। মহারাষ্ট্রে যে প্রস্তাবিত বিমানবন্দরটি তৈরির পরিকল্পনা চলছে সেটা গড়ে উঠতে পারে পশ্চিম মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার উপকূলে। এখানেই জমি পুনরুদ্ধার করে তৈরি করা হবে নতুন দ্বীপ। মূলত সে কারণেই মোট 45 হাজার কোটি টাকার অর্ধেকেরও বেশি অর্থ লাগছে শুধুমাত্র জমি পুনরুদ্ধার করে দ্বীপ তৈরি করতে।

কী কী সুবিধা হবে?

রিপোর্ট অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রের বুকে বিশেষ বিমানবন্দর তৈরি হলে প্রত্যেক বছর কম করে 90 মিলিয়ন অর্থাৎ 9 কোটি মানুষ এই বিমানবন্দর দিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে যাতায়াত করতে পারবেন। সেই সূত্রেই এটি দেশের বৃহত্তম বিমানবন্দর হয়ে উঠবে। একই সাথে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই বিমানবন্দর। কারণ এখানেই তৈরি হবে প্রধান কার্গো হাব। ফলে সহজেই বিভিন্ন কার্গো বিমানগুলি এই বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারবে। শোনা যাচ্ছে, প্রতিবছর এই বিমানবন্দর দিয়ে 3 মিলিয়ন মেট্রিক টন পর্যন্ত পণ্য আদান প্রদান করা যাবে।

অবশ্যই পড়ুন: KKR-র প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া ঋদ্ধিমান সাহাকে কোচ করতে চাইছে IPL-র এই দল

রিপোর্ট অনুযায়ী, সাধারণ যাত্রীদের সুবিধার্থে এই বিশেষ বিমানবন্দরটির সাথে ভাদোদোরা-মুম্বই এক্সপ্রেসকে সংযুক্ত করা হতে পারে। এছাড়াও জুড়ে দেওয়া হতে পারে পশ্চিম রেলওয়ে নেটওয়ার্ককেও। সেই সাথে দেশের প্রথম অফশোর বিমানবন্দরের সাথে সংযোগ থাকবে মেট্রো রেলওয়ের। শুধু তাই নয়, এই বিমানবন্দরের সাথে দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসের মেট্রোপলিটন অঞ্চলটিকেও যুক্ত করা হতে পারে। সব মিলিয়ে, ভারতের এই বিশেষ বিমানবন্দরের দৌলতে দেশ তথা বিদেশের বিভিন্ন অংশের সাথে যোগাযোগ যেমন দৃঢ় হবে তেমনই যাতায়াতে সবদিক থেকে সুবিধা হবে যাত্রীদের।

Leave a Comment